লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 16
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যখন বাল্যবিয়েসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূল করা, ঠিক তখনই এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে নাবালক ছেলের বাল্যবিয়ে নিবন্ধন ও কাবিননামায় বড় ধরনের জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্টার আমিনুর রহমান লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি হরিণচওড়া তালপাট্টি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সদর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির হিসেবেও পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে আদিতমারী উপজেলার কলেজছাত্র আব্দুল্লাহ আল আরাফাতকে (১৯) তার এক বন্ধুর মাধ্যমে কৌশলে ডেকে নেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি গ্রামে পুলিশ সদস্য এরশাদুল আলমের মেয়ে ইশরাদ জাহান ইপার সঙ্গে অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে জোরপূর্বক ওই কিশোরের বিয়ে নিবন্ধন করান কাজি আমিনুর রহমান। এ সময় ৩০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি বিয়ের সময় ১৫ লাখ টাকার দেনমোহর শোনানো হলেও পরবর্তীতে কাবিননামায় তা বাড়িয়ে ৬০ লাখ টাকা লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিয়ের দুই মাস না পেরোতেই নববধূর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতন মামলায় দীর্ঘ সময় হাজতবাস করতে হয় কলেজছাত্র আরাফাতকে। পরবর্তীতে বিয়ের নকল বা কাবিননামা হাতে পেয়ে দেনমোহরের এই বিপুল গরমিল ও জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় গত জুলাই মাসে বাল্যবিয়ে নিবন্ধন বাতিল ও কাজির শাস্তির দাবি জানিয়ে জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রের মা আমিনা বেগম।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল হক জানান, নিকাহ রেজিস্টার আমিনুর রহমান বারবার নোটিশ পাওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় ভলিউম বহি নিয়ে হাজির হননি। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে খুব দ্রুতই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত কাজি আমিনুর রহমান দাবি করেন, ছেলের পরিচয়পত্র যাচাই করেই নিয়মমাফিক বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত দেনমোহর ও কাগজপত্রের গরমিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। জেলা রেজিস্টার সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এর আগে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, বাল্যবিয়ে বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কাজির লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।