রংপুরের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্যের জট খোলেনি। গত ২২ আগস্ট রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ গৃহ থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, ছেলে আয়ুশ এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর পুলিশি তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এখনো হত্যার প্রকৃত কারণ ও পেছনের মূল রহস্য অজানা রয়ে গেছে।
ঘটনার তীব্র চাঞ্চল্যের পরদিন মধ্যমাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও প্রদান করে। তবে তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ পরিষ্কার হয়নি। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের স্বजनদের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের জন্য তাদের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার বিশদ প্রতিবেদন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তার ভিন্নমুখী বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও স্বজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বজন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। রংপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য জনমনে নানা সন্দেহের ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।
সব মিলিয়ে, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পুলিশের চলমান তদন্তে কিছু তথ্য বেরিয়ে এলেও চারজনকে একসঙ্গে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও অন্ধকারে রয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল রহস্য উদঘাটন করতে এখন কেবল ডিএনএ টেস্ট ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন তদন্তকারীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনসহ এলাকাবাসী।