মো. আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসেবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ৫ নম্বর দামিহা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল হাসান লিয়ন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “হে আল্লাহ, যদি আমাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে হযরত উমর (রা.)-এর মতো ইনসাফ, সাহস ও জবাবদিহিতার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করব।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ৫ নম্বর দামিহা ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান লিয়ন অন্য এক পোস্টে লেখেন, “এলাকার মানুষের পাশে থেকে সেবা করা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই। এ পথচলায় ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি। সবার দোয়া ও সহযোগিতায় ইনশাআল্লাহ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেতে চাই। সবার দোয়া ও সমর্থন একান্তভাবে কাম্য। ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মই নেতৃত্ব দেবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান লিয়ন প্রতিবেদককে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুবসমাজের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি আমার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ যদি আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তাহলে ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তর করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা মুখে জনগণের কথা বলেন, ফেসবুকে সততার গল্প শোনান, অথচ আড়ালে জনগণের অধিকার ও সম্পদ আত্মসাৎ করেন, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়াই আমার রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ জাগলে কোনো অসৎ নেতা আর বেশিদিন প্রতারণার রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে না।”
তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে আহ্বান করে একটি পোস্টে বলেন, “হে প্রিয় তরুণ ও যুবসমাজ, ইতিহাস সাক্ষী—যখনই সমাজে অন্ধকার নেমে এসেছে, যুবকরাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কায় অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে হিলফুল ফুজুল বা শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিল একদল উদ্যমী তরুণ। আজ আমাদের সমাজও মাদক, দুর্নীতি আর নৈতিক অবক্ষয়ের অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। আমাদের অভিভাবক ও বয়স্করা হয়তো নানা বাস্তবতায় আজ স্থবির হয়ে আছেন। কিন্তু আমরা তো তরুণ, আমাদের রক্ত অন্যায়কে কখনো মেনে নেবে না। তাই আসুন, আমরা নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ৫ নম্বর দামিহা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর ইউনিয়ন গঠনে ঐক্যবদ্ধ হই।”
তিনি আরও বলেন, “সৎ, যোগ্য ও ভালো মানুষদের বলছি, এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। শুধু সমালোচনা করে এই সমাজে পরিবর্তন আসবে না। পরিবর্তনের জন্য নিজেকেই সামনে আসতে হবে।”
একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে তিনি লেখেন, “সামনে নির্বাচন। দামিহার নেতৃত্ব কেমন হবে, সেটা নির্ধারণে ভালো মানুষদেরই এগিয়ে আসতে অনুরোধ করছি। আপনি যদি সত্যিই নিজেকে ভালো মানুষ মনে করেন, তাহলে নীরব থাকবেন না। রাজনীতিতে আসুন। ইনশাআল্লাহ, ভালো মানুষের অংশগ্রহণেই দামিহার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে।”
মাহমুদুল হাসান লিয়নের স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে ইতোমধ্যে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি জনসম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মাহমুদুল হাসান লিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চায়ের দোকান, বাজার, বিভিন্ন জনসমাগমস্থল ও মোড়ে মোড়ে ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দামিহা ইউনিয়নের কাজলা, আনোয়ারপুর, রাহেলা, মাগুরী, সিংগুয়ারপাড়, নগরকুল, কাছিলাহাটি, গজারিয়া, বর্মা, হাছলা ও দামিহা গ্রামের শাবনূর আক্তার, রুবেল, মাওলানা শফিউল্লাহ, হাবিবুর রহমান, কাইয়ুম, শাহান শাহ, তাপস পাল, তুষার, মহিউদ্দিন, জামাল হোসেন, সাদি, সুমন, রাব্বি, হৃদয়, মুফতি এনায়েত উল্লাহ, উজ্জ্বল মিয়া, এরশাদ, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল, খাইরুল ও জহিরুল ইসলামসহ ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণী, যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের একাংশ মাহমুদুল হাসান লিয়নকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের মতে, “পূর্বে আমরা অনেককেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছি। কিন্তু অনেকেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। বৈষম্য, দুর্নীতিও রয়েই গেছে। যেহেতু একজন শিক্ষিত তরুণ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন, তাই এখন জনকল্যাণ ও উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ এসেছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মাহমুদুল হাসান লিয়নের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার ভোটারদের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নির্বাচনের সময়ই স্পষ্ট হবে।