ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ নারী দলের নতুন প্রধান কোচ হলেন ডেভিড হ্যাম্প রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্তির কোন উপায়? বিমান বিধ্বস্ত করে যাত্রীদের মারার চেষ্টা করেছিলেন পাইলট: নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক মন্তব্য ডামি প্যানেল থেকে জিএস হওয়া সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক জাতিসংঘ সফরে দেশের অধিকার ও অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকায় ঢাবি হলে ফিরছে শেখ মুজিবুর রহমান নাম এবার লিটারে প্রায় ১২ টাকা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন রাষ্ট্রপতি তিন সেঞ্চুরিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডের পাহাড় গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত বেড়ে ১৯৪৮

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২,৩০,৭৭২ টাকা


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:২৯ পিএম

দেশের স্বর্ণের বাজারে স্বস্তির কিছুটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার সুযোগ শেষ করে আবারও মূল্যবৃদ্ধির বড় ধাক্কা লেগেছে। টানা তিন দফা দাম কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকার পর এবার মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের জুয়েলারি খাতের শীর্ষ সংগঠন। স্থানীয় বুলিয়ান বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন নির্ধারিত এই দাম বুধবার সকাল থেকে সমগ্র দেশের বাজারে কার্যকর হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণের বাজারদর ও মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বিশেষ বৈঠক বুধবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের শুরুতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যবান ধাতুটির সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সার্বিক দিক বিবেচনা করে গহনার নতুন দাম নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের এই নতুন দাম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয় এবং সকাল ১০টা থেকে তা সারাদেশে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর আগের কার্যদিবসে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল তুলনামূলক কম। উল্লেখ্য, স্বর্ণের পরিমাপের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ওজনের ক্ষেত্রে এই মূল্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

 

শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, অন্যান্য গ্রেডের স্বর্ণের দামেও সমতুল্য ও আনুপাতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার এখন থেকে বাজারে বিক্রি হবে দুই লাখ বিশ হাজার তিনশত একান্ন টাকায়। এছাড়া আধুনিক ডিজাইনের ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ উনআশি হাজার দুইশত আটচল্লিশ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ চৌান্ন হাজার ছয়শত ছয় টাকা। দেশের সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এই নতুন মূল্য তালিকার ভিত্তিতেই এখন থেকে খুচরা ও পাইকারি বাজারে লেনদেন সম্পন্ন করবেন।

 

স্বর্ণের বাজারে দাম বাড়ানোর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হলেও রুপার বাজারে স্বস্তির খবর বজায় রয়েছে। রুপার বাজারে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। রূপার পূর্বনির্ধারিত দামগুলো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা চার হাজার তিনশত ষোল টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম চার হাজার একশত একান্ন টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি তিন হাজার পাঁচশত আটান্ন টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম দুই হাজার ছয়শত তিরাশি টাকা বহাল রয়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে তাল মিলিয়ে দেশীয় বাজারে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্যের ওঠানামা এবং বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির বিনিয়োগ প্রবণতার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর আগে টানা তিন দফায় দাম কমানোর ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের জন্য সোনার গহনা সংগ্রহ করা আরও কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠল। বিশেষ করে আসন্ন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব এবং বিয়ের মৌসুমে এই বাড়তি দামের প্রভাব সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি সামনে স্থিতিশীল হলে স্থানীয় বাজারেও তার সুফল পাওয়া যাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর