চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ফার্নেস দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসাধীন ওই বিদেশি নাগরিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে এবং তার চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করতে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান তিনি।
গত সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘ফার্মিক স্টিল লিমিটেড’ কারখানায় একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটিতে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই গলিত লোহা ছিটকে পড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় কারখানাটির এক চীনা প্রকৌশলীসহ মোট চারজন শ্রমিক অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে দগ্ধ হন। এই দুর্ঘটনায় আহত অন্য শ্রমিকেরা হলেন মো. মনির, জুয়েল এবং সাইফুল। ঘটনার অব্যবহিত পর তাদের কারখানার সহকর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নেন। পরবর্তীতে অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় এক চীনা নাগরিকসহ মোট দুজন রোগীকে এই বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, দগ্ধ চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংয়ের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ বাংলাদেশি নাগরিকের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বর্তমানে এই দুজন রোগীকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টের কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড তাদের চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছেন।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে দেখতে গিয়ে তার পাশে কিছু সময় কাটান এবং তার শারীরিক পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শোনেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত চীনা নাগরিকের স্বজন ও সহকর্মীদের সাথেও কথা বলেন মন্ত্রী। তাদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি পুরোপুরি আশ্বস্ত করে বলেন যে, বাংলাদেশের এই জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এবং এখানে তার সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে রোগীর পরিবার বা স্বজনেরা যদি কোনো বিশেষ কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক হন, সে ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে কর্মরত দেশি ও বিদেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আরও বেশি কঠোর ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।