ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম পরিবর্তন না করার তীব্র প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়াঙ্গন। শিক্ষার্থীদের দাবিকৃত মতামত ও পূর্বের সিদ্ধান্তকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ফেলে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ এনে সিনেট অধিবেশন থেকে নাটকীয়ভাবে ওয়াকআউট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ ছাত্রনেতারা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিবেশনের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে এই চাঞ্চল্যকর ওয়াকআউটের কথা প্রকাশ করেন ডাকসু ভিপি। তিনি ফেসবুক ক্যাপশনে অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী প্রশাসন ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ও তাদের বিভিন্ন আইকনদের প্রতি একধরনের নমনীয়তা ও আপোষকামিতা প্রদর্শন করছে। সিন্ডিকেটে পূর্বে পাস হওয়া প্রস্তাবটি পুনরায় রিভিউয়ের নামে ঝুলিয়ে রেখে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মূলত ফ্যাসিবাদের দোসরদের নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে সিনেট অধিবেশনে ভিপি সাদিক কায়েমকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম মানসিক ট্রমা ও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তাদের নানাভাবে ট্যাগিং ও ভিক্টিমাইজ করা হচ্ছে। বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই নিপীড়নের সঠিক জবাব প্রশাসন কাকে দেবে? তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা দেশে প্রায় ১৮০টি অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও আইকনদের নাম পরিবর্তন করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন এমন গড়িমসি করা হচ্ছে।
ছাত্রনেতাদের মতামতকে বারবার অবমূল্যায়ন করার কথা তুলে ধরে সাদিক কায়েম আরও বলেন, সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু এসএমটি মিটিং এবং সিন্ডিকেট পেরিয়ে সিনেটে আসার পরও যখন একই ধরনের কালক্ষেপণ ও টালবাহানা শুরু হয়, তখন শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ছাত্রসমাজের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক মতামতকে অগ্রাহ্য করায় তারা বাধ্য হয়ে সিনেট অধিবেশন বর্জন করে ওয়াকআউট করেছেন। ছাত্রপ্রতিনিধিদের এই কঠোর অবস্থান ও প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।