ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬,  ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাসভবনের সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী রামপালে নতুন রেকর্ড: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সহযোগী সদস্যমাত্র: এটিএম আজহারুল ইসলাম সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফুওয়াং ক্লাবে এসআরবি ও এনবিআরের অভিযান ২০২৭ সালে নতুন বই ও ইউনিফর্ম পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা নিজ বাসভবনে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর চার সন্তানের জননী শিভন জিলিসের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটল ইলন মাস্কের লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইয়েমেনে হামলার পরিকল্পনা রিয়াদের নদী কি লাশের বাহক: সুশাসনের মুখে বড় প্রশ্নচিহ্ন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জন উদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন ও সৎকার খাতে সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৪১ পিএম

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও মহান মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ বিদায় মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সব প্রান্তের বীর সেনানীদের অন্তিম যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে মরদেহ সমাহিতকরণ, সৎকার এবং পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকার আর্থিক মঞ্জুরি প্রদান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলার প্রশাসন ও উপজেলা কাঠামোর মাধ্যমে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।


মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনামূলক আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদান হিসেবে নির্ধারিত মোট ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সেই তহবিল থেকেই এবার ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা বিশেষভাবে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দেশের ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসক এবং সব উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় করা হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।


বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াও আদেশে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসন ও উপজেলার উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে এই অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এজন্য নির্ধারিত সারণি বা অথরিটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের নিকট পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছাড় করা এই আর্থিক পরিমাণ চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতের সাথে সমন্বিত হবে। জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাযথ ও বৈধ বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা ট্রেজারি থেকে এই অর্থ উত্তোলন করে নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করবেন।


অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আদেশে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বরাদ্দকৃত এই অর্থ কেবলমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ সৎকার, সমাহিতকরণ এবং মরদেহ পরিবহন সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের কাজেই ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই অর্থের একটি কানাকড়িও ব্যয় করা যাবে না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত সকল আর্থিক বিধি-বিধান, স্বচ্ছতার মানদণ্ড এবং অন্যান্য নিয়মাচার যথাযথভাবে ও নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো কার্যক্রমে সামান্যতম অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।


এছাড়া আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন তারিখের পর যদি বরাদ্দকৃত অর্থের কোনো অংশ অব্যয়িত অবস্থায় থেকে যায়, তবে সেই অব্যয়িত অর্থ অবিলম্বে সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দেশের সব জেলার জেলা প্রশাসক এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে আদেশটি দ্রুত প্রকাশের জন্য সিস্টেম অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান এই আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর