পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, কেবল দাপ্তরিক পর্যায়ে নয়, বরং দেশের সব কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বাসভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপন করে উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে বিশাল পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর সুফল তিনি কাছ থেকে দেখেছেন, যা আমাদের দেশেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শহীদুল হাসান। এছাড়া অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। হাট-বাজার থেকে সংগৃহীত রাজস্বের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজে ব্যয় করতে উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়কের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বাস্তবায়নে সব উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে সবসময় তৎপর থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পাকা করা হয়েছে। তবে সময়ের প্রয়োজনে অনেক সড়ক আরও প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সুনির্দিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। সারা দেশ থেকে রক্ষণাবেক্ষণের প্রস্তাব আসলে মূল বাজেট থেকে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
সড়ক নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর কড়া নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কে কার্পেটিং বা পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর তা পুরোপুরি শক্ত ও টেকসই হতে সাধারণত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। এই সংবেদনশীল সময়ে সড়ক পাহারা দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে দিন ও রাতে অন্তত দুজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করতে উপজেলা প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন অনুযায়ী আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশের অর্থবছর হবে পহেলা এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এর ফলে আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত টানা শুষ্ক আবহাওয়া ও অনুকূল পরিবেশে উন্নয়নমূলক কাজগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বর্তমানে সংসদে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি কাজ করছে বলে জানান তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ রাষ্ট্রের কাঠামোগত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটির কাজের আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে। সভা শেষে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে মূল্যায়নভিত্তিক নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।