গাজীপুর প্রতিনিধি
ছুটির দিন বা স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততায় হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে ওঠা ঘন কুণ্ডলীর ধোঁয়া আর সাইরেনের বিকট শব্দে থমকে গেল গাজীপুরের এক জনবহুল শিল্প এলাকা। ডেগেরচালার ফকির মার্কেট এলাকার একটি বহুতল পোশাক কারখানায় হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুনের লেলিহান শিখার চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভেতরে আটকা পড়ে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন কারখানার অন্তত সত্তর জন শ্রমিক ও কর্মী। পরে ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে গাজীপুর মহানগরের ডেগেরচালার ফকির মার্কেট এলাকার ওই সাততলা শিল্প কারখানায় এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। কাজের ব্যস্তসময়ে হঠাৎ ভবনের তিন তলা থেকে আগুনের ধোঁয়া ও শিখা বের হতে দেখে কারখানার ভেতর ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কর্মীরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় অনেকে ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। তবে আগুনের ভয়াবহতা ও ধোঁয়ার তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ইউনিট যুক্ত হয়। কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটিসহ মোট নয়টি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট বর্তমানে ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
পুরো উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সাততলা বিশিষ্ট ওই কারখানার তিন তলাতেই মূলত আগুনের মূল সূত্রপাত হয়েছিল। কারখানার ভেতর থেকে সৃষ্ট এই ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অগ্নিনির্বাপণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কারখানার ঠিক আশপাশে পর্যাপ্ত পানির কোনো উৎস বা পুকুর না থাকা এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ বা ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে এ ধরনের কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতির প্রশ্ন। বারবার ফায়ার সেফটি জোরদার করার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক কারখানায় আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমন দুর্ঘটনাগুলোতে শ্রমিকদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পুরো ঘটনাটির তদন্ত এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।