সাতক্ষীরায় এইচএসসি ফলপ্রার্থী এক উদীয়মান কলেজছাত্র জাকারিয়া খানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুহিদ হাসান রনি নামের একাদশ শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত জাকারিয়া সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে সদ্য সমাপ্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশী ছিলেন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের বখাটেদের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ওই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিনের ভাইপো এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নাহিদ ইসলাম রনিসহ ৯ থেকে ১০ জনের একটি দল চা দোকানদার রবিউল ইসলামের কাছে সিগারেট কিনতে আসে। দোকানদার সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভাই লিটন হোসেন বাবুর ছেলে এবং পল্লী মঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করা বাপ্পি হাসান সেখানে চা তৈরি করছিলেন। চায়ের বিল পরিশোধ ও চা বানানোকে কেন্দ্র করে রনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির তীব্র বচসা বাধে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটেরা বাপ্পিকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
প্রিয় স্বজনকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন স্থানীয় রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ১৯ বছর বয়সী ছেলে জাকারিয়া খান। কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন জানান, জাকারিয়া শুক্রবার রাত সোয়া দশটায় লাবণী মোড়ের নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রুচিরা বেকারি থেকে বের হয়ে ইটাগাছা মামার দোকানে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রাণিসম্পদ অফিস মোড়ে বাপ্পির ওপর হামলা দেখে তিনি বাধা দেন এবং এর প্রতিবাদ জানান। ঠিক তখনই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নাহিদ ইসলাম রনি ওরফে মুহিদ হাসান রনি ক্ষিপ্ত হয়ে জাকারিয়াকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরি চালান। তার বুকে ও পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাকারিয়া ও বাপ্পিকে দ্রুত উদ্ধার করে রাত বারোটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে জাকারিয়ার ফুসফুসে ছুরির মারাত্মক আঘাত লাগায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদী হয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের জন্য শনিবার একটি এজাহার দাখিল করেছেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাকারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।