প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছেন তার সঙ্গী শিভন জিলিস। তবে এই বিচ্ছেদকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক বলে অভিহিত করেছেন এই নারী। সম্পর্ক ভাঙার মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তাদের মধ্যে উষ্ণ ও ভালোবাসার বার্তা বিনিময় হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন ও দীর্ঘ পোস্টে নিজেদের সম্পর্কের সমাপ্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন শিভন জিলিস। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসায় থাকা থেকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার অবস্থায় চলে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন, যেখানে বিন্দুমাত্র কোনো পূর্বসতর্কতা ছিল না।’ আকস্মিক এই বিচ্ছেদে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।
মাস্কের সঙ্গে কাটানো বিগত দিনগুলোর কথা স্মরণ করে জিলিস উল্লেখ করেন, তিনি আনন্দিত যে ইলন মাস্ককে এমন একটি নিরাপদ ও প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ উপহার দিতে পেরেছিলেন, যেখানে তিনি বাইরের চাপ ও কাজের ক্লান্তি ভুলে নিজেকে বুঝতে, যত্ন পেতে এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা অনুভব করতে পারতেন। জিলিস আরও যোগ করেন, মাস্কের জন্য তাদের এই পরিবারটি ছিল একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ‘আমি তাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি।’ মাস্কের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন এবং তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও প্রাপ্তি।
উল্লেখ্য, ইলন মাস্ক ও শিভন জিলিসের চার সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে তাদের যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুরে জন্মগ্রহণ করে। এরপর ২০২৪ সালে জন্ম নেয় আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে চতুর্থ সন্তান হিসেবে পৃথিবীতে আসে সেলডন। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘকাল অনেকটাই গোপনীয় ও ব্যক্তিগত ছিল। ২০২২ সালে তাদের যমজ সন্তানের জন্মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর চলতি বছরের আইনি নথিপত্র ও কার্যক্রমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসে।
সম্পর্কের এই অপ্রত্যাশিত ইতি ঘটলেও ইলন মাস্কের সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জিলিস। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা ভবিষ্যতে ভালো বন্ধু ও সফল সহ-অভিভাবক হিসেবে সন্তানদের বড় করে তুলবেন। এদিকে, এই বিচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাননি ইলন মাস্ক। জিলিসের এই পোস্টের পরও তাকে এক্স হ্যান্ডলে নিয়মিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে পোস্ট করতে দেখা গেছে। বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ বা নেপথ্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে জিলিস বিস্তারিত কিছু প্রকাশ না করলেও তার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।