সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ছিনতাই চেষ্টার ঘটনা ও ককপিটের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে শোনা একটি অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ গল্পের কথা প্রকাশ করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে কো-পাইলটের অতর্কিত হামলায় প্রধান পাইলট মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর বিমানটি যখন বিপজ্জনকভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন চরম এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়। এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এ বিষয়ে দীর্ঘ ফোনালাপ ও আলোচনা হয়েছে। কথোপকথনের সময় নেতানিয়াহু তাকে জানিয়েছেন যে, বিমানের ভেতরে উপস্থিত একজন সাধারণ পাইপ মিস্ত্রি কোনো পূর্ব প্রশিক্ষণ ছাড়াই অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমানটিকে মারাত্মক বিধ্বস্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
ইসরায়েলে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পর ওই পাইপ মিস্ত্রি খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইয়ানিভ হাইয়ুন নামের সেই পাইপ মিস্ত্রি নেতানিয়াহুকে জানান যে, বিমানটি যখন খাড়াখাড়িভাবে ভূগর্ভের দিকে দ্রুত নেমে আসছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আত্মঘাতী হামলাকারী কো-পাইলটকে সরিয়ে পাইলটের আসনে বসে পড়েন। এরপর নিজ হাতে বিমানের কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ নিজের আয়ত্তে নিয়ে সেটি ওপরের দিকে টেনে ধরেন, যার ফলে বিমানটি সোজা হয়ে রক্ষা পায়। সবচেয়ে অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ওই মিস্ত্রি দাবি করেন যে তিনি কখনো পেশাদারভাবে বিমান চালনা শেখেননি, বরং টেলিভিশনে প্রচারিত বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও শো দেখে তিনি বিমান চালানোর কৌশল শিখেছিলেন।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই অবিশ্বাস্য গল্প শোনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সেটির সত্যতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "ওই ব্যক্তি চিৎকার শুনতে পান এবং ভেতরের পরিস্থিতি দেখতে যান। কখনো বিমান না চালানো ব্যক্তি বিমানের কন্ট্রোল হাতে নিয়ে সেটি ওপরের দিকে টান দেন এবং বিমান বাঁচান—এমন কথাই আমাকে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন। এটি হলো সেই ঘটনা যা আমি শুনেছি, কিন্তু এটি আদতে সত্যি কি না, তা আমি জানি না।"
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর করা এই দাবির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা কৌতূহল তৈরি হলেও, পরবর্তীতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বিমানে ভ্রমণরত অন্য একজন দায়িত্বের বাইরে থাকা বা অফ-ডিউটি পাইলট দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন এবং অত্যন্ত পেশাদার দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদভাবে জরুরি অবতরণ করান। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই বিমান ছিনতাই ও অলৌকিক বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটির পেছনের আসল সত্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: ইয়েনেত