দেশের বিদ্যুৎ খাতে যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তার উৎপাদন সক্ষমতায় এক অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে একসঙ্গে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা সফলভাবে সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।
শনিবার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম গণমাধ্যমকে এই রেকর্ড উৎপাদনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত বা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে কেন্দ্রের উভয় ইউনিট থেকে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ও সরবরাহ সফলভাবে অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমান এই রেকর্ড উৎপাদনের আওতায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। দুই ইউনিটের এই সর্বোচ্চ ও যৌথ উৎপাদন দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদাপূরণে এবং লোডশেডিং কমাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অংশীদারত্বে ২০১০ সালে রামপালে এই বৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত এই রেকর্ড উৎপাদন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।