ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬,  ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ অর্থাভাবে বন্ধ চিকিৎসা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণ হাফেজ সোহানুর ঢাকার যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা: কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জুনের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ঘালিবাফ প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৪২৩, শীর্ষে মোটরসাইকেল


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:২৩ পিএম

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন এক নিত্যদিনের আতঙ্ক ও মরনফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথ রক্তে সিক্ত হয়েছে মর্মান্তিক সব দুর্ঘটনায়। বিশেষ করে দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি এবং অসাবধানতা যেন প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক উদ্বেগজনক প্রতিবেদনে গত সেপ্টেম্বর মাসের দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, যা আমাদের সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৩ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৬৭৪ জন। সড়ক দুর্ঘটনার এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। গত এক মাসে সারাদেশে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এটি মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৪.৮৪ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩২.৮৬ শতাংশ। এছাড়া মহাসড়ক ও বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া চলাচলের কারণে ১০৬ জন পথচারী এবং যানবাহনের ৫৩ জন চালক ও সহকারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


নিহত যাত্রীদের যানবাহনের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনার মতো থ্রি-হুইলারের যাত্রীদের মধ্যে ৮৮ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাসযাত্রী ২৬ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও ট্রলির আরোহী ১৯ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র ও টমটমের যাত্রী ১৮ জন এবং ৬ জন বাইসাইকেল আরোহী সড়ক দুর্ঘটনায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।


বিভাগ ও জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একক জেলা হিসেবে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে সর্বোচ্চ ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


শুধু সড়কপথেই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে নৌ ও রেলপথের অবস্থাও ছিল বেশ শোচনীয়। এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যাতে ১৬ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি রেলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় ২৩টি রেল ট্র্যাক বা রেললাইন দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের অনুসন্ধানে সড়ক দুর্ঘটনার এই ভয়াবহ চিত্র বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের মধ্যে গাড়ি ওভারটেক করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও ভাঙাচোরা সড়ক, চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা অন্যতম।


এই মহামারি রূপ নেওয়া দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু যুগান্তকারী সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সাধারণ পথচারী ও চালকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন


এ সম্পর্কিত আরো খবর