তাইওয়ানের
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারের ওপর গোপন নজরদারি চালানোর অভিযোগে এক চীনা রিয়েল
এস্টেট এজেন্টকে আটক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। ক্যালিফোর্নিয়ার আর্ভাইন শহরের বাসিন্দা ওয়ানিং ‘হেদার’ ঝাং নামের ৩৪ বছর বয়সী
ওই নারীকে সাংহাইগামী একটি বিমানে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হয়। চীন সরকারের নিবন্ধিত কোনো বৈধ এজেন্ট না হয়েও অত্যন্ত
সুকৌশলে অবৈধভাবে এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ
পরিচালনা করছিলেন তিনি। মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ ও গোয়েন্দাদের যৌথ
অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর ও
সংবেদনশীল তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।
তদন্তে
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর
মাসে ঝাং তার এক সহযোগীকে সঙ্গে
নিয়ে নেভাদা থেকে সিয়াটলে ভ্রমণ করেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট লাই-এর ছেলে লাই
তিং-ইউ-এর বেসামরিক
বাসভবনের সামনে গিয়ে তারা বেশ কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চালান। বাসভবনের বাইরে পার্ক করা গাড়ি, লাইসেন্স প্লেটের ছবি তোলার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি ভিডিও ক্যামেরায় রেকর্ড করেন তারা। পরবর্তীতে উইচ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে এই সমস্ত অত্যন্ত
সংবেদনশীল তথ্য চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত পাচার করা হতো। ঝাঙের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে চীনা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার কথোপকথনের সুস্পষ্ট প্রমাণ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া তার এক প্রতিবেশীর বাড়ির
সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজেও ঝাঙের এই গোপন রেকর্ডিংয়ের
দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছিল, যা এই অপরাধের
সত্যতা আরও জোরালো করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জোরালো ধারণা, তাইওয়ানের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাতের
পরিস্থিতি তৈরি হলে, বেইজিং যেন তাইওয়ান সরকারের ওপর কৌশলগত ও মানসিক চাপ
সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এই ব্যক্তিগত তথ্যগুলো
ব্যবহার করতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই
নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের মুখপাত্র কারেন কুও এই ঘটনাকে অত্যন্ত
‘বর্বর আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা ও তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাইওয়ানিজ নাগরিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য
উঠে এসেছে। সূত্র: এএনআই