বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার আলোচিত সাবেক সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে বিদেশযাত্রার প্রাক্কালে আটকে দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে তার আকস্মিক এই বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে মাহদী হাসানকে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পার হতে দেওয়া হয়নি। তাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং তিনি পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমের কাছে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন মাহদী হাসান নিজেই। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে তার জ্যামাইকা যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু বোর্ডিং পাস সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার ঠিক আগমুহূর্তে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে থামিয়ে দেন এবং জানান যে তার বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিজের পক্ষে জোরালো দাবি উপস্থাপন করে মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান যে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দেশের বিভিন্ন আদালতের সবকটি মামলা থেকেই তিনি ইতিমধ্যে জামিন লাভ করেছেন। আইনগতভাবে তিনি একজন মুক্ত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে এমন আকস্মিক হয়রানির শিকার হতে হলো এবং বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে আদালতের বিশেষ অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতিপত্র ছাড়া তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আর কোনো বিকল্প না পেয়ে তিনি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় একজন পরিচিত নেতার বিদেশযাত্রায় এমন কঠোর বাধার মুখে পড়ার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অতীতে আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী এই নেতার বিরুদ্ধে ঠিক কী কারণে এবং কোন উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে বিদেশগমনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা ইমিগ্রেশন বিভাগের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। তবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান আইনি প্রক্রিয়া, দেশজুড়ে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলা এবং বিচারাধীন বিষয়গুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নির্দেশনা মেনে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আইন ও অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনি মারপ্যাঁচ এবং বিচারাধীন মামলার জট পুরোপুরি না খোলা পর্যন্ত এই ধরনের আলোচিত ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণ বা দেশত্যাগের ওপর ইমিগ্রেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ি অব্যাহত থাকতে পারে। মাহদী হাসানের এই বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বহির্গমন ও নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নতুন কোনো আলোচনার জন্ম দেবে কি না, সেদিকেই এখন দেশের সচেতন মহলের গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।