রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য হতে হবে বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সত্যিকারের শক্তিশালী করা সম্ভব।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত সভায় বিভিন্ন এনজিওর সম্মানিত প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খান ফাউন্ডেশন-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই রাজনৈতিক আদর্শ লালন করে কাজ করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে কিংবা জাকজমকপূর্ণ আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই তিনি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধির যেমন জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি রয়েছে, তেমনি সচেতন ও সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মূল দায়িত্বও সাধারণ জনগণের।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের নিঃস্বার্থ সেবা করার আদর্শ ও ব্রত ছাড়া রাজনীতি কখনোই সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের শেকড় মজবুত করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা কখনোই সম্ভব হবে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সাধন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা তাঁর সামনে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু চ্যালেঞ্জ। মানুষ যেন যেকোনো ধরনের ভীতি বা সংশয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের জোরালো পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক রাজনৈতিক বিদ্বেষ কমানোর প্রশস্ত সুযোগ তৈরি হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, তবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে সব ধরনের দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একসাথে কাজ করতে হবে।
সমাজ গঠনে এনজিও বা বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও এনজিও উভয়েরই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে হবে।
দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, এনজিও পরিচালনায় বিদেশি বা বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অটুট রাখা প্রয়োজন। অর্থায়ন হ্রাসের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে। সরকারি খাসজমি ও পুকুরসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং খান ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।