বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য ও সাবেক সফল মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যু সংক্রান্ত একটি মনগড়া ও ভিত্তিহীন খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও পরিবারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তার মৃত্যুর এই সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। তিনি বর্তমানে আগের তুলনায় কিছুটা ভালো আছেন এবং রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজস্ব বাসগৃহে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নামের একটি ছোট্ট মিলের কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই গুজবের নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী মোকছেদুর রহমান আবির। তিনি জানান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নিজস্ব জুনিয়র আইনজীবী রফিকুল হোসেন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর সুপরিচিত আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত আইনজীবী এবং প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের নামের প্রথমাংশে মিল থাকার কারণে তথ্য আদান-প্রদানের সময় বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই নামের বিভ্রান্তির জের ধরেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনানুষ্ঠানিক মহলে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মৃত্যুর ভুল খবরটি দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নামের এই কাকতালীয় মিলের কারণে খোদ বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও ভুলবশত বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। পরে অবশ্য বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর সংশোধনী আনা হয়। প্রয়াত আইনজীবী রফিকুল হোসেনের মরদেহ যথাযথ মর্যাদায় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দাফন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগে আসা বিএনপির এই প্রবীণ নেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সহকারী আবির জানান, স্যার শারীরিক দিক থেকে আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল ও ভালো আছেন। তবে বয়সজনিত নানা জটিলতা পুরোপুরি দূর হয়নি। তাকে নিয়মিত বিরতিতে রাজধানীর উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও সার্বক্ষণিক নির্দেশনার আলোকেই তাকে বর্তমান বাসা থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
পরিবার ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে আরও জানা যায়, যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সুবিধার কথা বিবেচনা করেই মূলত তারা ধানমন্ডির পুরোনো বাসা পরিবর্তন করে বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিকটবর্তী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নতুন বাসায় বসবাস শুরু করেছেন। সাবেক এই মন্ত্রী বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক জিয়াউল হকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন। এর আগে তার অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় তার ব্যক্তিগত সহকারী ও চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) সরাসরি বসুন্ধরায় তার বাসগৃহে গিয়ে এই বর্ষীয়ান নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ মার্চ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সহধর্মিণী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক না ফেরার দেশে চলে যান। জীবনসঙ্গীর এই আকস্মিক ও চিরবিদায়ের পর থেকেই প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েন এবং অনেকটা নিভৃতে সময় কাটাচ্ছেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা সত্ত্বেও তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বাসাতেই স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অসুস্থতা ও গুজবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সাময়িকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও সঠিক তথ্য প্রকাশের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে।