সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ পেয়েছে। সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এই অর্থ আদায় সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ আদায়ে সহযোগিতা করার জন্য প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
নুরুল হক ২০২৩ সালে সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি সামনে আসে। এ অর্থ আদায়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখে।
সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে নুরুল হকের পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ গ্রহণ করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওনা বুঝে পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে দ্রুত ও আন্তরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
সাক্ষাতের সময় প্রতিমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সার্বিক জীবনযাত্রার বিষয়েও জানতে চান তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক কথোপকথন হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি প্রবাসী বিপদে পড়লে কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হলে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রবাসীদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ন্যায্য আইনি ও আর্থিক পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কর্মস্থলে কোনো প্রবাসীর মৃত্যু বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ আদায় অনেক সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নুরুল হকের পরিবারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের ন্যায্য পাওনা আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।