মোহাম্মদ বাকি অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরের ঐতিহাসিক তালপুকুরপাড়ে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে দূষণের আশঙ্কা বাড়ছে। পুকুরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা একদিকে এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট করছে, অন্যদিকে জলজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন ঘনিয়ে এলেও পুকুরপাড় পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিসর্জন উপলক্ষে সমবেত ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত তালপুকুরপাড় এলাকাটি নগরের পরিচিত ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর একটি। প্রাচীনকাল থেকেই কুমিল্লা দীঘি ও পুকুরের শহর হিসেবে পরিচিত। এই পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তালপুকুরের নামও। একসময় পুকুরপাড়জুড়ে সারি সারি তালগাছ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছিল। সময়ের সঙ্গে নগরায়ণের বিস্তারে বদলে গেছে এলাকাটির চেহারা। চারপাশে প্রশস্ত সড়ক ও বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় তালপুকুরপাড় এখন নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও পরিচিত এলাকায় পরিণত হয়েছে।
তবে নগরের এই পরিচিত স্থানের পরিবেশ রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুকুরের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পুকুরের স্বাভাবিক পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে তালপুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় পুকুরপাড়ে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। ধর্মীয় এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের সমাগম হওয়ায় স্থানটির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিসর্জনের সময় ঘনিয়ে এলেও পুকুরসংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়ভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে পুকুরপাড়ের পরিবেশ ক্রমেই নোংরা হয়ে উঠছে। সময়মতো আবর্জনা অপসারণ করা না হলে বিসর্জনের দিন দর্শনার্থীদের চলাচল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পুকুরের পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়া এবং আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
বর্জ্য জমে থাকার প্রভাব শুধু এলাকার সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব আবর্জনা পুকুরের পানিতে মিশলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনধারণও হুমকির মুখে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে থাকলে দূষণের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের আগেই তালপুকুরপাড়ের ময়লা-আবর্জনা অপসারণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পুকুরের আশপাশে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তালপুকুর কুমিল্লার ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ। তাই উৎসবকে ঘিরে সাময়িক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পুকুরের পরিবেশ রক্ষায়ও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন বিজয়া দশমীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন নিশ্চিত করতে তালপুকুরপাড়ের বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো উদ্যোগ নিলে একদিকে উৎসবে আগত মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নগরের এই ঐতিহাসিক জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার পথও সুগম হবে।