রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মকর্তার পাঠানো চিঠিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক এক কর্মকর্তা। তাঁর অভিযোগ, নকশাবহির্ভূত একটি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে নকশা চাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে আগের মতোই প্রক্রিয়া জটিল করছে। ওই ভবনের মধ্যে তাঁর জমি রয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের রায়ও আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, সম্প্রতি হাইকোর্টে বিএনপির আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাসায় ফিরে রাজউকের ওই কর্মকর্তার পাঠানো চিঠি দেখতে পান। চিঠি পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানালেও এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি বাংলাদেশের একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে দীর্ঘ ৩৫ বছর চাকরি করেছেন। এ সময় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন। তিনি মনে করেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
বক্তব্যে তিনি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পাঠানো একটি চিঠির সঙ্গে সাম্প্রতিক চিঠির ভাষার মিল রয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের মতো একই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি নতুন করে শুরু করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নকশাবহির্ভূত ভবন ভাঙার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছিল; নকশা চাওয়ার জন্য নয়। এ কারণে তিনি চিঠি পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, ভবনটিকে অবৈধভাবে টিকিয়ে রাখতে একটি পক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে এবং এর পেছনে অবৈধ আর্থিক লেনদেন থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নিজের জমির বিষয়ে তিনি জানান, বিতর্কিত ভবনের মধ্যে তাঁর আধা শতাংশের বেশি সম্পত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের রায় আছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাড়ির মধ্যে দৈর্ঘ্যে ৭২ ফুট জায়গার চার ফুট অংশ তাঁর জমির অন্তর্ভুক্ত। এ জমির ভূমি উন্নয়ন কর ২০২৭ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজউকের কর্মকর্তার প্রতি ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হওয়ায় তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি পেশাগত জবাবদিহি ও আইনানুগ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজউকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি একজন পরিদর্শক এবং আবদুল মালেক রাজু নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট নথি বা যাচাই করা তথ্য বক্তব্যে দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নিজেকে দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজউকের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। ভবনসংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।
এ ঘটনায় মূল প্রশ্ন হলো, ভবনটি নকশাবহির্ভূত কি না, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও আদালতের রায়ের প্রকৃত অবস্থান কী এবং রাজউক তার দায়িত্ব অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং রাজউক কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।