ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,  ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

‘কিশোর গ্যাং থাকবে, নয়তো ওসি’-বেতাগীতে চিফ হুইপের হুঁশিয়ারি


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:১২ পিএম

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি ও অনলাইন জুয়া নির্মূলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে থানায় তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।


রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে উপজেলা উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন চিফ হুইপ। সভায় এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।


বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদকে উদ্দেশ করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, এলাকার কোথাও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ কিংবা অনলাইন জুয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের তৎপরতা তিনি মেনে নেবেন না। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এখানে হয় চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়া থাকবে, নয়তো বেতাগী থানায় ওসি থাকবে।’


চিফ হুইপের এই কঠোর বক্তব্যের পর সভায় দাঁড়িয়ে জবাব দেন ওসি হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমিই বেতাগী থানায় দায়িত্ব পালন করব। আপনার নির্দেশ অনুযায়ী এলাকায় কোনো কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ বা অনলাইন জুয়ার অস্তিত্ব থাকবে না।’


সভায় বেতাগীতে সম্প্রতি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক বা অসামাজিক সংগঠনের গোপন মিছিল হওয়ার খবরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, বরগুনা-২ আসনের কোথাও এ ধরনের অপতৎপরতা দেখতে চান না তিনি।


রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়। তাঁর নাম কিংবা ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি চাঁদাবাজি বা জমি-সম্পদ দখলের চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।


তিনি আরও বলেন, কেউ পেশিশক্তি প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষের সম্পদ দখল করবে, আর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নীরব থাকবেন—এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন চিফ হুইপ। কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


বেতাগীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দেওয়া এই নির্দেশনার পর এখন নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে অপরাধ দমনে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর থাকবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।


এ সম্পর্কিত আরো খবর