ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে জামায়াত এজেন্টরা: ফয়সল আমীন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই মিলল সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার পরিচয় জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ মির্জাপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা একাধিক ট্রেন বঙ্গোপসাগরে জাপানের ‘বিগ-বি’ ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ, নিহত ৫ কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, কাঠগড়ায় ড্যাব

সৌদিতে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: আগে বা পরে জানানো হয়নি বাংলাদেশকে


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১২:৩৪ পিএম

সৌদি আরবে চরম শাস্তি হিসেবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কোনো আগাম বার্তা দেয়নি। এমনকি সাজা কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কিছুই জানানো হয়নি। রিয়াদের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

 

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ প্রকাশ পায়। সেখান থেকেই প্রথম এই বিষয়টি জানতে পারেন বাংলাদেশি কূটনীতিকরা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদি গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে অবমাননা করার অভিযোগে মক্কা অঞ্চলে তাঁদের এই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে আগেই আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর যে খসড়া তালিকাটি পাওয়া যায়, সেখানে নজরুল ও সুইটির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেখানে তাঁদের কোনো শাস্তির কথা লেখা ছিল না। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, তাঁরা আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

 

নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধে এবং সুইটিকে পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটিকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা নারী কারাগারে। কনস্যুলেটের পর্যবেক্ষণ বলছে, সৌদি আরবে ইতিপূর্বে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের মতো অভিযোগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই। সৌদি কারাগারগুলোতে বর্তমানে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন, যাদের অনেকের সাজা ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত হলেও মৃত্যুদণ্ডের কোনো তথ্য তালিকায় ছিল না।

 

কনস্যুলেট নিশ্চিত করেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাননি তাঁরা। সৌদি কর্তৃপক্ষও রায কিংবা কার্যকরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। বর্তমানে রাযের অবিকল কপি ও মামলার বিস্তারিত পেতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর