কালিয়াকৈরের শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষের অগ্নিশিখা কিছুতেই নিভছে না। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে পুরো গাজীপুর রণে রূপ নিয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাদের রুখতে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকরা মহাসড়কে থাকা অর্ধশতাধিক যানবাহন এবং রাস্তার পাশের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালান। মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশের ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় শিল্পনগরীর মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সুফিপুর ও হরিণঘাটি এলাকার সব পোশাক কারখানা ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানা থেকে শ্রমিকরা দলে দলে বের হয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় একত্রিত হতে থাকেন। তারা মহাসড়কে বাঁশ ও কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ গড়ে তোলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সময় মহাসড়কে আটকে থাকা বাস, ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকরা। মুহূর্তে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকরা হঠাৎ করে মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গেলে তাণ্ডব শুরু হয়। শ্রমিকরা সড়কের গাড়ি ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালান। বর্তমানে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।
মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা। শিল্পমালিকদের সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং শ্রমিকদের সাথে কার্যকর আলোচনায় না পৌঁছানো পর্যন্ত কারখানাগুলো খোলা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগকে অচল করে দিয়েছে। বর্তমানে মোতায়েন থাকা বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা টিয়ারশেল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।