ন্যূনতম
মজুরি ৩০ হাজার টাকা
নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর প্রবেশমুখ গাজীপুর ও এর আশপাশের
শিল্পাঞ্চল। বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ
যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গাজীপুরে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি
মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত
শ্রমিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত
এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা
করা, অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং ইতিপূর্বে তৈরি করা শ্রমিকদের কালো তালিকা বাতিল করা। শিল্পাঞ্চলে শান্তি ফেরাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় মহাসড়কে
স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে বিজিবি ও পুলিশসহ প্রশাসনের
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য,
পোশাক শ্রমিকদের এই অসন্তোষের আঁচ
ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার মিরপুর এবং সাভারের আশুলিয়াতেও। আগের দিন রোববার থেকেই আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ঢাকার মিরপুর-১০, ১১ ও ১২
নম্বরসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন হাজার হাজার শ্রমিক। এতে ওইসব এলাকার প্রধান সড়কগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে এবং ঢাকার ভেতরের পরিবহন ব্যবস্থায় মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
এদিকে
পোশাক শ্রমিকদের এই চলমান আন্দোলনকে
কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ের জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং সেই বোর্ডের মাধ্যমেই সকল নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের বিষয়টি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও তারা রাস্তা ছাড়ছেন না। পুলিশের কাছে মনে হচ্ছে, শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবিকে
ঢাল করে রাষ্ট্রবিরোধী বা সরকারবিরোধী কোনো
চক্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।