দেশজুড়ে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। শীতের আবহাওয়ার মধ্যেও এডিস মশাবাহিত এই রোগটির প্রকোপ একটুও কমেনি, বরং প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি রোগী। এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করা ৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন এবং খুলনা বিভাগে দুজন মারা গেছেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল অনিয়মিত, তবে বর্ষা ও এর পরবর্তী সময়ে এসে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে গত অক্টোবর মাসে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৬৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মাধ্যমে চলতি বছরে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৫ জনে পৌঁছেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ৮৬৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫৬ জন, খুলনা বিভাগে ২১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২০৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৬ জন, রংপুর বিভাগে ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর এই অবনতিশীল পরিস্থিতির জন্য এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং সচেতনতার অভাবই মূলত দায়ী। শুধু সরকারি উদ্যোগে মশক নিধন করলেই চলবে না, বরং বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা এবং ফুল হাতা পোশাক পরার মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অবহেলা কিংবা জ্বরকে অবমূল্যায়ন করলে তা জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে। তাই জ্বর অনুভূত হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।