ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬,  ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদালতে পরীমণির তাণ্ডব: সাংবাদিকদের গালিগালাজ, ফোন ছিনতাই ও মারধর ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা বিজিএমইএ’র রাজউকের দুর্নীতির অভয়ারণ্য: বাংলো সংস্কারে ৩০ লাখের জায়গায় ৩ কোটির বিল শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেয়া হবে না, হস্তান্তর চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জামায়াতপ্রীতি ও আদর্শিক বিচ্যুতির অভিযোগ এনে এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৯৬ ফিনএয়ারের দুটি বিমানে বোমা হামলার হুমকি, তল্লাশিতে ভুয়া প্রমাণিত দেশের শিশু-কিশোরদের নিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ সূচনা গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল

বলপ্রয়োগ করে শ্রমিক আন্দোলন থামানো যাবে না: নাহিদ ইসলাম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৩৩ এএম

চলমান পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে সরকার এবং সরকারি দল বলপ্রয়োগ ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, সরকার শুরু থেকে অবহেলা করে ভুলভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কারণেই আজ দেশে এমন সংকটময় অবস্থা তৈরি হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাজীপুরে আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।


নাহিদ ইসলাম বলেন, নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের স্মরণে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়েছে। টিয়ারশেল, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড বর্ষণে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়কসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।


সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে শ্রমিক আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিগত আমলে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে যেভাবে অগণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন দমন করা হতো, বর্তমানেও একই কায়দায় শ্রমিকদের বাসাবাড়িতে তল্লাশি, নির্বিচারে মামলা প্রদান ও গ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন বলতেই জামায়াত-শিবির আখ্যা দেওয়া হতো, আর এখন যেকোনো ন্যায়সংগত দাবির পেছনে আওয়ামী লীগের ভূত খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


পরিস্থিতি উত্তরণে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ৩ দফা দাবি পেশ করেন:

১. নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিকের পরিবারকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

২. আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক ও নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।

৩. আন্দোলন পরবর্তী সময়ে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই, আইনি পদক্ষেপ, ব্ল্যাকলিস্ট বা চাকরিচ্যুত না করার নিশ্চয়তা প্রদান করা।


তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই আন্দোলন কোনোভাবেই পোশাকশিল্প বা মালিকদের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি শ্রমিকদের স্রেফ বেঁচে থাকার লড়াই। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পোশাকশিল্পকে রক্ষা করতে হলে শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। তাই কোনো ধরনের ছলচাতুরী না করে অনতিবিলম্বে মালিক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে একটি সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর