কদরুল হুদা ডেলটন
বিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞান বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, লোহা এবং অনেক মৌল পৃথিবীর নয়। বরং সেসব মৌল বহির্বিশ্ব থেকে আগত, যা কুরআনের ভাষায় নাযিল করা হয়েছে। নাযিল শব্দের অর্থ হলো পৃথিবীর বাইরে থেকে আগত।
আমরা জানি, নক্ষত্রের অভ্যন্তরে বা কোরে নিউক্লিয়ার ফিউশন হয়। ফলে হালকা থেকে ভারী মৌলের সৃষ্টি হয়। নক্ষত্রের ভর যদি সূর্যের কাছাকাছি হয়, তাহলে হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম এবং পরে কার্বন উৎপন্ন হয়। কিন্তু নক্ষত্রের ভর যদি সূর্যের থেকে অনেক বেশি হয়, তাহলে কার্বনের পর অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সিলিকন ও লোহা উৎপন্ন হয়।
নক্ষত্র তার জীবনকালের শেষ পর্যায়ে বিস্ফোরিত হয়, যা সুপারনোভা নামে পরিচিত। বিস্ফোরণের ফলে ঐসব মৌল মহাশূন্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নীহারিকার সৃষ্টি করে। পরে মহাকর্ষীয় সংকোচনের ফলে নীহারিকা হতে নতুন নক্ষত্র ও গ্রহের সৃষ্টি হয়।
আজ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর আগে ভাসমান এক নীহারিকার সংকোচন থেকে আমাদের সূর্য ও গ্রহসমূহ গঠিত। ঐ নীহারিকা অতীতে কোনো এক নক্ষত্রের বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছিল। সুতরাং পৃথিবীতে প্রাপ্ত লোহা প্রকৃতপক্ষে সুদূর অতীতে এক নক্ষত্রের বিস্ফোরণে সৃষ্ট নীহারিকা হতে আগত বা নাযিলপ্রাপ্ত।
কুরআনে বলা হয়েছেৃ
সূরা আল হাদীদ (৫৭), আয়াত ২৫ — ওয়া আনঝালনাল হাদীদা ফীহি বা’ছুন শাদীদুওঁ ওয়া মানা-ফি‘উ লিন্না-ছি (৫৭: ২৫)
আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার (৫৭: ২৫)
আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে কুরআনে এটি বলা হয়েছে। সুবাহান আল্লাহ
প্রশ্ন হলো, এত মৌলিক পদার্থ থাকতে মহান আল¬াহ কেন শুধু লোহার উপর আলোকপাত করেছেন? এর সঠিক উত্তর জানা নাই। তবে পারিপার্শিকতার উপর ভিত্তি করে কিছু যৌক্তিক ধারণা করা যায়। যেমন প্রাণ সৃষ্টিতে যে সকল মৌল প্রয়োজন, তার মধ্যে লোহার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। সম্ভবত সে কারণে মহান স্রষ্টা লোহাকে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। হয়তো একে প্রতীকী করে মহান স্রষ্টা জানাতে চেয়েছেন, এরই মতো স্রষ্টার সৃষ্টিতে অন্যান্য মৌলগুলোতেও অনুরূপ সমন্বয় রয়েছে। তাছাড়া আধুনিক পৃথিবীতে ধাতব পদার্থের মধ্যে লোহার ব্যবহার এত বেশি যে, তা অন্য কারও সাথে তুলনাই চলে না। যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদন ছাড়াও লোহার রয়েছে চুম্বক শক্তি। এই শক্তিই আধুনিক সভ্যতাকে অনেক গতিময় করে তুলেছে। তাই বলা যায়, লোহা অনেক শক্তিধর ও উপকারী মৌল।