পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে
জেলা কারাগারের ব্যারাক থেকে সাজেদুর রহমান মিলন (৪২) নামের এক কারারক্ষীর লাশ উদ্ধার
করা হয়েছে। বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা কারাগারের ব্যারাকের নিচ তলার
একটি ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
গত
৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা কারাগার থেকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বদলি করা হয় এবং চলতি
সালের ১২ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে যোগদান করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে
তিনি আত্নহত্যা করেছেন। নিহত সাজেদুর রহমান শেরপুর জেলার শ্রিবর্ধি থানার সাইফুল ইসলামের
ছেলে ও দুই সন্তানের পিতা।
মৃত
কারারক্ষীর পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, দুপুর ১২টায় ডিউটি শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায়
শেষ হয় কারারক্ষী সাজেদুর রহমানের। ডিউটি শেষ করে তিনি বাসায় না যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী
ফাহিমা বেগম তাকে খোঁজ করতে কারাগারে পৌঁছান। অনেক খোঁজাখুজির পর নিচ তলার একটি ব্যারাকের
দরজা ভেঙ্গে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় কারারক্ষীরা ও তার স্ত্রী। এসময় তাঁকে
নামিয়ে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পটুয়াখালী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার শুভ সাহা জানান, সন্ধ্যার পরে সাজেদুর
রহমান নামে কারারক্ষিকে মৃত নিয়ে আসা হয়। তাঁর গলার পেছন দিকে দাগ ছিল। আপাতত তাঁর
মরদেহ পোষ্টমর্টেমের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত
কারারক্ষী সাজেদুর রহমানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানান, তার স্বামী সাজেদুর রহমান বেশকিছুদিন
অসুস্থ ছিলো। সেজন্য তিনি জেলা কারাগারের জেলার লাভলু স্যারের কাছে ছুটির আবেদন করেন।
কিন্তুু লাভলু স্যার ছুটি না দিয়ে উল্টো আমার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন
এবং বান্দরবান বদলি করিয়ে দিবেন বলে হুমকি ধামকি দেন।
নিহত
কারারক্ষী সাজেদুর রহমানের স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী কারাগারের
জেলার মোঃ লাভলু বলেন, আমি সাজেদুর রহমানকে কোন ধরনের গালিগালাজ করিনি। সে আমার সহকর্মী
তাকে কেন গালিগালাজ করব আমি। সাজেদুর রহমান অসুস্থ থাকার কারনে কয়েকদিন আগেও ছুটিতে
ছিলো।
আকাশজমিন/আরআর