ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪

রাজশাহীর বাগমারায় ধর্ষণচেস্টার অভিযোগ

২০ হাজার টাকায় রফাদফা!


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ মে, ২০২৫ সময় : ৬:১১ পিএম

উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: 

রাজশাহীর বাগমারায় এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে গ্রাম্য সালিশে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রাম্য মাতবররা সালিশ বসিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতের এ ঘটনা জানাাজনি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন অপরাধের বিচার সালিশে করা ঠিক হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে মাতব্বরদের পক্ষে বলা হয়েছে, বিচার করার এখতিয়ার তাদের না থাকলেও উভয় পরিবারের দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালী গ্রামের এক গৃহবধূ ধর্ষণ চেষ্টা ও নির্যাতনের শিকার হন। ওইদিন রাতে একই গ্রামের মোজাহার আলী  নামের এক ব্যক্তি গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই ঘটনায় পরের দিন গৃহবধূর স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। ঈদের ছুটি থাকার কারণে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি চেয়ারম্যান। তবে এই বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেন।

তবে ঈদের পরের দিন রাতে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ বসানো হয়। ওই সালিশে ইউপি সদস্য আমানুল্লাহসহ গ্রামের মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে শমসের আলী, আবু সাঈদ, আলা হোসেন ও আবেদ আলী নেতৃত্ব দেন। সালিশে মাতব্বরদের জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ শিকার করেন। পরে অভিযুক্তের কাছ থেকে অপরাধের জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পুনরায় এই ধরনের অপরাধে জড়ালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে বলে লিখিত মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়।

সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ খামারু বলেন, বিষয়টির সুরাহা করা হয়েছে। তবে কীভাবে করা হলো এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। সালিশে উপস্থিত থাকা শমসের আলী নামের এক মাতব্বর বলেন, ‘বিষয়টি সালিশেই নিষ্পত্বি করা হয়েছে। বিচার করলে অনেক কিছু করতে হয়, সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে অভিযোগকারীকে ১৫ হাজার টাকা, স্থানীয় মসজিদে দুই হাজার টাকা এবং তিন হাজার টাকার মিষ্টি কিনে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিবারের পক্ষেও এমনটিও চাওয়া হয়েছিল। উভয় পরিবারের দিক বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সালিশের পর অভিযোগকারীর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। সালিশের বিষয়ে জানাজানি হলে বুধবার দুপুর থেকে আড়ালে চলে যান অভিযোগকারী। পুলিশী বিপদ হতে পারে এমন আশঙ্কায় মাতব্বরেরা তাঁদের আড়ালে রেখেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার জানান, তিনি ঈদের দিন লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ওই সময় ছুটি থাকায় নোটিশ করতে পারেননি। বিষয়টি দেখার জন্য ইউপি সদস্যের মাধ্যমে স্থানীয় লোকজনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা গ্রাম্য সালিশে আপোষ করার কোনো সুযোগ নেই। যদি থানায় জানানো হয়, তাহলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

 

আকাশজমিন/আরআর

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর