উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 143
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:
ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনে মুসল্লীদের ওপর নৃশংস গণহত্যা, বর্বোরচিত হামলার প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজশাহী নগরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নগরজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহনে এসব কর্মসূচী পালন করা হয়। বিক্ষোভ শেষে ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইসরাইলী সব পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হয়।
সকাল
থেকে পৃথকভাবে এ আন্দোলনে অংশ
নেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী মুহাম্মদীয়া যুব সুন্নীর শিক্ষক,
কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীসহ মুসুল্লিরা।
বিক্ষোভ
ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে গণহত্যার দায়ে
মুছে ফেলার আহ্বানও জানান তারা। তারা আরও বলেন,
আমেরিকার মতো যেসব দেশ
এমন গণহত্যা দেখেও নিশ্চুপ, তাদের বয়কট করতে হবে।
পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলো নীরবে গণহত্যার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে
প্রতীয়মান হচ্ছে। অবিলম্বে মুসলিম দেশগুলোকে এককাতারে এসে এ গণহত্যার
প্রতিবাদের আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
এর
আগে দেশজুড়ে সকল প্রতিষ্ঠানের দাফতরিক
কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই অংশ
হিসেবে সোমবার দিনব্যাপী আন্দোলনে রাজপথে নামেন মুসল্লীসহ সাধারণ মানুষ।
এদিকে
মৃত শিশুর লাশ কোলে নিয়ে
কখনো আর্তনাদ আবার কখনো শোকে
স্তব্ধ ফিলিস্তিনি এক পিতা। আর
তার গলায় বিশ্বমোড়লদের বাঁধা
শেকল আর উপহাস। এমন
দৃশ্যের আবতারনা করে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি
তুলে ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্যরিসরোড যেন
একখন্ড ফিলিস্তিন হিসেবে ফুটে উঠে। আর
এ অবস্থায় ইজরাইলের এমন বর্বর হত্যাকান্ডের
বিচার, প্রতিবাদ আর বয়কটে ফেটে
পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
ঘন্টাব্যাপী
চলা এ মানববন্ধন থেকে
বিশ্ব মুসলিম নেতাদের একত্রিত হয়ে ফিলিস্তিনের পাশে
দাড়ানোর আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি ইজরাইলের সকল পণ্য বয়কটের
আহ্বান আসে এই বিক্ষোভ
সমাবেশ থেকে। একই সাথে নগরীর
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ও
রাজনৈতিক সংগঠন গুলো এর প্রতিবাদে
বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
এদিকে
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই
কর্মসূচি পালন করেছে ক্যাম্পসের
গোল চত্বরে। এছাড়াও
রাজশাহীর প্রায় ১০টি স্থানে বিভিন্ন
সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
একই কর্মসূচি পালন করছে।
এদিকে
গাজায় চলমান জেনোসাইড-ধ্বংসযজ্ঞে মানবতার এই চরম বিপর্যয়ের
প্রেক্ষিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
গভীর শোক ও ক্ষোভ
প্রকাশ করছে। ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ কর্মসূচির
সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রুয়েট পরিবার
জানায়, গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের জাগরণ এখন সময়ের দাবি।
বিশ্ব
যখন উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণে অগ্রসর
হচ্ছে, তখন একটিমাত্র ভূখণ্ডে
অবরুদ্ধ লক্ষ লক্ষ মানুষÑবিশেষ করে নারী ও
শিশুÑনিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক
ইস্যু নয়; এটি মানবিকতার
প্রশ্ন।
রাজশাহী
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মানবতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির পক্ষে
দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। আমরা বিশ্বাস
করি, গাজা ও পৃথিবীর
প্রতিটি মানুষের জীবনের সমান মূল্য রয়েছে।#