ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ভালুকার স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তা সুমনের আঙ্গুর চাষে সফলতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৫ মে, ২০২৫ সময় : ১২:৫৫ পিএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের কৈয়াদী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন আহমেদ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছেন। অনার্স তৃতীয় বর্ষের এই ছাত্র প্রায় শতক জমিতে ১৩ জাতের উন্নত মানের আঙ্গুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন, যা স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।

সুমন আহমেদ শুধু একজন সাধারণ ছাত্র নন, তিনি একজন স্বপ্নবাজ তরুণ যিনি কৃষিকে বেছে নিয়েছেন নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উন্নত জাতের আঙ্গুর সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় চাষাবাদ শুরু করেন। তার বাগানে চাষকৃত আঙ্গুরের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বাইকুনর, একেলো, ভেলেজ, গ্রিন লং, আমেরিকান রিলায়েন্স, অস্ট্রেলিয়ান কিং, মাসকাট হুয়াইট, মার্সেল ফোর্স, থার্টি ওয়ান এবং জয় সিডলেজ।

গত বছরের তুলনায় এই বছর সুমনের আঙ্গুর চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন হয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগামীতেও ফলনের পরিমাণ আরও বাড়বে। সুমন বলেন, "দেশজুড়ে যদি এইভাবে উন্নত জাতের আঙ্গুরের চাষ বিস্তৃত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আঙ্গুর আমদানির প্রয়োজন নাও হতে পারে।"

সুমনের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কৈয়াদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি সবসময় কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছেন।

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, "সুমন পরীক্ষামূলকভাবে তার বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ করেছে। সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে ভালুকার মাটি আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত।"

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের মাটি আঙ্গুরের জন্য উপযুক্ত। পরিমিত মাত্রায় সার যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে একটি আঙ্গুর গাছ বছরের পর বছর ধরে ফলন দিতে পারে। বাংলাদেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আঙ্গুর গাছ ছাটাই করলে মার্চ-এপ্রিলে ফল পাওয়া যায়। আঙ্গুর পাকার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে পলিথিন জাতীয় কাগজ দিয়ে গাছ ঢেকে দিতে হয়, কারণ বৃষ্টির পানি লাগলে আঙ্গুর ফেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

সুমন তার বাগানকে আরও সম্প্রসারিত করতে চান এবং আধুনিক পদ্ধতিতে আঙ্গুর চাষের প্রসার ঘটাতে চান। তার লক্ষ্য স্থানীয় বাজারে উচ্চমানের আঙ্গুর সরবরাহ করে বিদেশি ফল আমদানির পরিমাণ কমানো। এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এখন সুমনের সাফল্যে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং আঙ্গুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর