ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পাবনায় গ্রাহকদের ১০ কোটি টাকা নিয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’র মাঠকর্মী উধাও


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৩ মে, ২০২৫ সময় : ২:৩৭ পিএম

কাজী বাবলা, পাবনা: 

পাবনায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সুজানগর শাখার মাঠকর্মী বিশ্বজিৎ কুমার পাল গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। প্রতারণার শিকার গ্রাহকেরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। 

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সুজানগর উপজেলা ম্যানেজার আব্দুর রাশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বজিৎ কুমার পাল গ্রাহকদের সঞ্চয় এবং ঋণের কিস্তির টাকা গ্রহণ করেছেন। এবং  দুপুরে ব্যাংক থেকে তার বেতন অন্যান্য ভাতাদিও উত্তোলন করেছেন। তবে গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েকজন গ্রাহক বিশেষ প্রয়োজনে তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পান। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা তালা বদ্ধ দেখতে পান।

পরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মাঠকর্মী বিশ্বজিৎ কুমার পাল তাদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেন। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ থেকে ২কোটি টাকা আত্মসাতের কথা জানতে পেরেছেন। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ পালের বিরুদ্ধে রোববার সুজানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সকল তথ্য নিচ্ছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ আব্দুর রাশেদ জানান।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিশ্বজিৎ পাল মোটা অংকের টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ  থেকে ২ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় নিয়েছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ ৪০/৪৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। বিশ্বজিৎ পাল সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের আন্ধারকোটা গ্রামের শংকর কুমার পালের ছেলে। বর্তমানে বিশ্বজিৎসহ পরিবারের সকল সদস্য পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

জানা যায়, ২০১৪ সালে চাকুরীতে যোগদান করা মাঠকর্মী বিশ্বজিৎ কুমার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দুলাই ইউনিয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার ১৯টি সমিতির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। এই সকল সমিতির ৪৮৬জন সদস্য রয়েছে। সমিতির সদস্যদের ঋণ দেওয়া, ঋণের কিস্তি নিয়মিত আদায় করা ছিল তার মূল দায়িত্ব। অল্পদিনের মধ্যে সমিতির সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা, মিষ্টি ব্যবহার দিয়ে বিশ্বস্ততা তৈরি করে ফেলেন মাঠ সহকারী বিশ্বজিৎ কুমার।

এর ফলে ১৯টি সমিতির প্রায় ৩০ ভাগ গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের পাশ বই বিশ্বজিৎ কুমার কৌশলে তার কাছে রেখে দেন। সম্প্রতি গ্রাহকরা বইয়ের কথা বললে, বলতেন কোনো সমস্যা নেই। অফিসে অডিট চলছে, অডিট শেষ হলে বই ফেরত দেওয়া হবে। বই আমার কাছে আছে। এভাবে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা এবং নতুন সদস্য করে বিভিন্ন ব্যক্তির মোটা অংকের টাকা লোন পাশ করিয়ে দেবার কথা বলে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছেন। এদিকে গ্রাহকদের পাশ বই এর হদিস না পাওয়ায় কিস্তির কার কত টাকা বাকী বা জমা আছে তার কোনো হিসাব দেখাতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা।

দুলাই ইউনিয়নের তেবিলা গ্রামের সমিতির সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, মাত্র ২ শতাংশ হারে লাভে ১৫ লাখ টাকা নতুন করে লোন দেবার কথা বলে আমার কাছ থেকে গত ২৪ এপ্রিল ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে জমা রশিদ দেয়। কিন্তু সে টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে পালিয়েছে। সমিতির অপর সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছ থেকে সঞ্চয়ের ২৯ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৩,২৫,৮০০ হাজার টাকা নিয়েছে বিশ্বজিৎ ২০ লাখ টাকা নতুন করে ২ শতাংশ লাভে লোন দেবার কথা বলে। এখন অফিস থেকে বলছে কোনো টাকাই জমা হয়নি। বইও আমার কাছে নেই। এ রকম অনেক গ্রাহক বিশ্বজিৎ কুমারের কাছে টাকা জমা দিয়ে পথে পথে ঘুরছে। 

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সমিতির একজন সদস্য ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। এর বেশি লোন পেতে হলে উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলা কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত সুজানগর উপজেলার কোন সদস্যকেই ২ লাখ টাকার উপরে লোন প্রদান করা হয়নি। কতিপয় সদস্যদের অতি লোভের কারণে এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ঐ সুত্র দাবী করেছে।

আকাশজমিন/আরআর 






এ সম্পর্কিত আরো খবর