টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার হোস্টেলের আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় দুই দাখিল পরীক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত
২৫ মে (রোববার) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এক লিখিত নোটিশে জানায়, চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী
তাহমিদ আজাদ ও তাসনিমুল ইসলাম জিহাদ পরীক্ষা শেষ করে হোস্টেল ত্যাগের পূর্বে ছাত্রাবাসের
বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। তদন্তে প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে উভয় শিক্ষার্থী দোষ
স্বীকার করেন এবং জরিমানাস্বরূপ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উভয় শিক্ষার্থী শহীদ শরীয়ত উল্লাহ হলের চতুর্থ তলায় অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি কক্ষের জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে দুই পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী তাসনিমুল ইসলাম জিহাদের পিতা মো. সোহেল রানা জীবন বলেন, "আমদের মাদ্রাসা কতৃপক্ষ ডেকে এনে মাদ্রাসায় ছেলের করেছে। আমরা বিচার মেনে জরিমানাও দিয়েছি। এরপর আবার বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হলো। এটা কি ডাবল শাস্তি নয়? আমি এই ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত।
অপর শিক্ষার্থী তাহমিদ আজাদের মন্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। হোস্টেলের সম্পত্তি নষ্ট করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দৃষ্টান্ত হয়।”
উল্লেখ্য, তাহমিদ আজাদ ও তাসনিমুল ইসলাম জিহাদ দুজনেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাহমিদের পিতা মো. আবুল কালাম এবং মাতা রোকেয়া ইয়াসমিন; জিহাদের পিতা মো. সোহেল রানা জীবন ও মাতা জেসমিন আক্তার।
আকাশজমিন/আরআর