ভৈরব প্রতিনিধি:
স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতন ও একাধিক নারীদের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী স্ত্রী রাহেলা বেগম সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের খাসহাওলা গ্রামের মৃত আঃ ওয়াহাবের পুত্র নবী হোসেনের সাথে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রাহেলা বেগমের।
বিয়ের পর স্বামী নবী হোসেন স্ত্রীকে শ্বশুড় বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ ৩লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। তাছাড়া স্বামী নবী হোসেন একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নবী হোসেন বর্তমানে কুলিয়ারচর পূর্বলালপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার ওরফে রুপালী নামে এক নারীর সাথে পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বাধা দেয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দেন এবং নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। জান্নাত আক্তার রুপালী তার পূর্বের স্বামীকে একই দিনে তালাক দিয়ে নবী হোসেনকে বিয়ে করেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী ৬মাসের অন্তসত্তা রাহেলা বেগম ২জন কন্যা সন্তান নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন ।
এবিষয়ে প্রতিকার পেতে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের ইনচার্জ জান্নাত আক্তারের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। তিনি আরো অভিযোগ করেন, নবী হোসেন তাকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা দাবি করে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে।
স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে রাহেলা বেগম গত ৮মার্চ নবী হোসেনের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ নবী হোসেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালে সে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি দিচ্ছে স্ত্রীকে । এবিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান ও বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী রাহেলা বেগম।
গণঅধিকার পরিষদ ভৈরবের মূখ্য সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল জানান, নবী হোসেন দলের কোন পদে নেই । এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা । তবে রাহেলা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলো আমি দু'পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছি ।
আকাশজমিন/আরআর