ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

অধ্যক্ষ নিয়োগ জটিলতা

মোহনগঞ্জ কলেজে বেতন বোনাস থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ জুন, ২০২৫ সময় : ৬:১৩ পিএম

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতায় দুই মাস ধরে বেতন ও ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। কলেজের ৩৫ জন শিক্ষক ও ২০ জন কর্মচারী এ পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

 

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে কলেজের অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেনএ কারণে কলেজের কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানান এবং তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি তোলেন।

 

এ প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ইমাম হাসানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এ নিয়োগে ক্ষুব্ধ হয়ে সৈয়দা নার্গিস ফারজানা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউসি) মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় মাউসি কর্তৃপক্ষ বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হাসানকে আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করেনি। ফলে গত দুই মাস ধরে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত বেতন এবং  ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা পাননি।

 

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। কলেজটিতে ৩৫ জন শিক্ষক, ৭ জন এমপিওভুক্ত ও ১৩ জন অস্থায়ীসহ মোট ২০ জন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

শিক্ষকরা বলছেন, বছরে একটা কোরবানি ঈদ আসে। পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঈদ করার ইচ্ছা থাকে সবারই। এখন ঈদের আন্দ শেষ, দুই মাস ধরে পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

 

এ বিষয়ে কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, "আমরা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চাই না। শুধু চাই নিয়মিত বেতন ও প্রাপ্য ভাতা যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়। না হলে অনেকেই চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়বেন।"

 

 এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানা বলেন, জৈষ্ঠ্যতম শিক্ষক হওয়ায় বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের কমিটিতে আমার নাম রয়েছে বলে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার অজান্তে ওই কমিটিতে আমার দেওয়া হয়েছিল। তখন সেটা ওইভাবে গুরুত্ব দেইনি। শুধু আমি একা নাই কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ওই কমিটিতে রয়েছে। তাদের তো কোন সমস্যা হচ্ছে না। সমস্যা শুধু আমার বেলায়। এ বিষয়ে মাউশিতে অভিযোগ করেছেন বলে তিনি জানান।

 

কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমাম হাসান আজ বুধবার বলেন, শিক্ষক সৈয়দা নার্গিস ফারজানা চাকরিতে আমার পনেরো মিনিট আগে যোগদান করার কারণে তিনি এই কলেজে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনে তার নাম থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না করতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 সেকারণে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাসের টাকার বিষয়ে জটিলতা কেটেছে। তবে তারা সেই টাকা ঈদের পরে তুলতে পারবেন। এদিকে অস্থায়ী ভিত্তিতে চার্করিরত কর্মচারীদের ৫ হাজার করে টাকা কলেজ থেকে দেওয়া হয়েছে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর