টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তালিমঘর এলাকায় তোফাজ্জল হোসেন তালীমুল কুরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। ২২ জুন (রোববার) ভোরে ওই মাদরাসা থেকে তারা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো- উপজেলার বেড়বাড়ী খন্দকার পাড়া গ্রামের নাজিবুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম (১৫), বাজাইল গ্রামের সেলিম হোসাইনের ছেলে মমিনুল ইসলাম মারুফ (১৬) এবং মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া গ্রামের আলাল মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (১৫)।
মাদরাসার
সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর ৪টার দিকে শিক্ষার্থীদের ছবক দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। তখন
এই ওই তিন শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা রাগ করে মাদরাসা
থেকে পালিয়ে যায়। সেটি চিন্তা করে অভিভাবকদের জানানো হয়েছে।
নিখোঁজ
সামিউল ইসলামের বাবা নাজিবুল হাসান বলেন, মাদরাসা থেকে আমাকে জানানো হয় ছেলেকে পাওয়া
যাচ্ছে না। সকালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তক্তারচালা বাজার থেকে অটোরিকশা করে তারা মির্জাপুর
উপজেলার গোড়াই এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল মেইন রোডে গিয়ে নেমেছে। আমরা আমাদের সব আত্মীয়স্বজনের
বাড়িতে খোঁজখবর করছি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পাকুল্লা এলাকা থেকে নাফিউর রহমান (আবিদ) নামে ১৩ বছরের এক কিশোর দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার চর পাকুল্লা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও পাকুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার
সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর ফিরেনি।
আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খুঁজেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা নজরুল ইসলাম
সোমবার (২৩ জুন) টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই তাজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ আবিদ সঙ্গে করে কোনো ডিভাইস বা মোবাইল (ইলেকট্রনিক যন্ত্র) নিয়ে যায়নি। ওই এলাকার সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু তাকে দেখা যায়নি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি নিখোঁজ নাফিউর রহমান (আবিদ) এর সন্ধান পেলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে তার বাবা নজরুল ইসলাম।
আকাশজমিন/আরআর