সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 123
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। গত নয় মাসে চুরি হয়েছে ২৮টি ট্রান্সফরমার। নতুন ট্রান্সফরমার সংযোজনে লাখ লাখ টাকা গচ্চার পাশাপাশি বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে চুরির ঘটনায় মামলা করলেও পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তাার করতে পারেনি।
তবে চোর ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানা গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাড়াশ জোনাল অফিস তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে তাড়াশে ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর বেশির ভাগ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন কয়েক হাজার গ্রাহক। চুরি যাওয়া ২৮ ট্রান্সফরমারের আর্থিক মূল্য ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৯৮০ টাকা। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে ট্রান্সফরমার বেঁধে রেখেছেন স্থানীয়রা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, চুরি হওয়া এলাকায় নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য ট্রান্সফরমারের দামের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয় গ্রাহকদের।
আর দ্বিতীয়বার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের মূল্যের
সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় গ্রাহকদের, যা দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য খুব কষ্টের। যেকোনো
মূল্যে চোর চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন গ্রাহকেরা। ট্রান্সফরমার চুরি
হয়ে বিদ্যুৎবিহীন থাকা গ্রাহক চৌড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ নাজির উদ্দিন জানান, আমাদের
ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে যায়। তিন দিনেও বিদ্যুৎ পাইনি। কারণ, ট্রান্সফরমারের মূল দামের
অর্ধেক অর্থাৎ ২২ হাজার টাকা আমাদের দিতে হবে। এত টাকা একবারে জোগাড় করা খুবই কষ্টের।
চৌড়া এলাকার বাসিন্দা আসলাম হোসেন জানান, আমাদের এলাকায় মাঝে মাঝেই ট্রান্সফরমার চুরি
হচ্ছে। আর চুরি হলেই কয়েক দিন বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়, আবার টাকাও গুনতে হয়। এর থেকে
ভোগান্তির আর কিছু নেই।
চৌড়া
গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, চুরি হওয়ার পরে এলাকার ট্রান্সফরমারটি লোহার শিকল
দিয়ে বেঁধে রেখেছি। তারপরও চুরি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছি। ট্রান্সফরমার থাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির
ওপরে, এটা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। চুরি ঠেকাতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান এই
কৃষক।
তাড়াশ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো: শামসুজ্জামান ট্রান্সফরমার
চুরি এড়াতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, চুরির খবর পাওয়ার পরেই গ্রাহকদের
সংশ্লিষ্ট থানায় আমরা মামলা করতে বলেছি। এখনো কোনো চোরকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে
চুরি ঠেকাতে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চুরির
ঘটনা একই রকম। চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা মূল্যবান তামার তার নিয়ে ধাতব গোল
বাক্স ও তেল ফেলে চলে যায়। ভাঙারির দোকানগুলোতে নজরদারি বাড়াতে পারলে চোর ধরা সম্ভব
বলে মনে করেন পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।
তাড়াশ
থানার ওসি (তদন্ত) রুপ কর জানান, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত
করা হচ্ছে। চোরদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব শিগগির চোর চক্রকে শনাক্ত
ও আটক করা সম্ভব হবে।
আকাশজমিন/আরাআর