দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
দশমিনা উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার প্রেমের কথা জানতে পাওয়ায় নির্যাতন করে মোসাঃ রহিমা বেগম (২৭) নামে গৃহবধূকে হাসপাতালে পাঠালো স্বামী।বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হাজির হাট গ্রামের মেলকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রহিমা বেগম উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হাজিরহাট গ্রামের রুবেল মেলকারের স্ত্রী ও একই উপজেলা আলিপুরা ইউনিয়নের চাঁনপুরা গ্রামের হাওলাদার বাড়ি রবিউল হাওলাদারের বড়ো মেয়ে।
পারিবারিকভাবে জানা যায়,রুবেল ও রহিমার দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর একাধিক মেয়ের সাথে পরকীয়ার কথা জানতে পেরেছে রহিমা। প্রতিবাদ করলে একাধিকবার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এরপরে তিনি ঢাকায় ছেলে ও মেয়ে নিয়ে গিয়ে যাত্রাবাড়ীর শনিআখরা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। পরে তার স্বামীক নিযে একই স্থানে কয়েক মাস একই কর্মস্থলে দুইজন কাজ করতেন, এক পর্যায়ে তার স্বামী হঠাৎ থাকার জন্য তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে।
বাধ্য হয়ে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে তার স্বামীকে দেশে পাঠিয়ে দেন তিনি, এর কয়েক মাস পর থেকেই তার ও ছেলে মেয়ের ভরণ পোষণের খরচ চালাতে অস্বীকার করে তার সাথে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয়। এরপরে চলতি বছরে ঈদুল আযহার আগে স্বামী তার কাছে গিয়ে ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো কিছু টাকা পয়সার জন্য স্ত্রীকে বেধরক মারধর করেন,পরে পারিবারিক ও স্থানীয় সালিশ গনরা তাদেরকে একটি ফয়সালা করিয়ে দেন। এর পরে ২৪ জুন হঠাৎ রহিমা বেগ জানতে পারে তার স্বামী পুনরায় পরকীয়া প্রেমে আসক্ত এ বিষয়ে জানতে চাইলে একইরদিনে একাধিকবার তাকে মারধর করে। পরে ২৫ জুন বুধবার সন্ধ্যার পরে আবার এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে রহিমা বেগমকে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বাসায় রেখে চলে যান। পরে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে দেন। এদিকে রুবেল নিজে বাঁচার জন্য নিজেও হাসপাতালে ভর্তির অভিনয় করে বলে যানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার রহিমা বেগমের অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যদ চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রহিমার চাচা হারুন হাওলাদার জানান, বেতনের টাকা দিয়েই ওর স্বামী রুবেল সংসার চালায়, রুবেল মাঝে মধ্যে কাজে যায়,সে টাকা সংসারে কোন খরচ করে না,আড্ডা বাজি আর মোবাইলের পেছনে খরচ করে,রহিমা মাসে পঁচিশ,ত্রিশ হাজার টাকা কামাই করে, রহিমাকে দিয়ে দের থেকে দুই লক্ষ টাকা এনজিও অন্যান্য জায়গা থেকে ঋণ করিয়েছে, এমতাঅবস্থায় রুবেল গ্রামের বাড়ী দশমিনায় চলে আসে, সে দশমিনা একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে এবং বেতনের টাকা তার বাড়ীর একটি বিবাহিত মেয়ের অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকা মেয়ের পিছনে খরচ করতে থাকে,এরি মধ্যে ঢাকায় রুবেল এবং রহিমার ৪/৫ বছরের মেয়েকে কুকুরে কামর দেয় রহিমা তার মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে ছুটা ছুটি করে,কিন্তু রুবেল, এ খবর জেনেও তার বাচ্চা এবং পরিবারের কোন খোঁজ খবর নেয়নি,রহিমা মেয়ের চিকিৎসা করার পরে যারা বিভিন্ন পাওনাদার টাকার জন্য রহিমাকে চাপ দেয় সে নিরুপায় হয়ে স্বামীর কাছে আসতে বাধ্য হয়,দশমিনায় তার দোকানের মালিকের কাছে জানায়,কোন সুরাহা না পেয়ে,দশমিনা থানার এ এস আই জসিম সাহেব কে অবহিত করে, গত কোরবানির পরে এএস আই জসিম সাহেব উভয় পক্ষের গার্ডিয়ান ডেকে,বিষয় টা ফয়সালা করে দেয়, কয়েক দিন যেতে না যেতে, রুবেল এবং রুবেলের অবৈধ সম্পর্কের মহিলা রহিমার উপর চাপ দিতে থাকে যাতে রহিমা এখান থেকে কেটে পরে,তা হলেই রুবেল ও তার অবৈধ সম্পর্কের মহিলা বাস্তবে তাদের সম্পর্কে রুপ দিতে পারে,রহিমা কোন কিছুতেই তার স্বামীর বাড়ি থেকে যেতে চাচ্ছেনা,এর পর থেকেই শুরু হলো অমানবিক নির্যাতন তার নির্যাতনের কারনে রহিমা বর্তমানে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি আছে এবিষয় আইনের কাছে আমরা বিচার চাই।
এ বিষয়ে রুবেল অস্বীকার করে বলেন,আমি আমার স্ত্রীকে মারিনী উল্টো সে আমাকে মেরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে আমি আগে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলাম এ ঘটনা সত্য তবে এখন নেই, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তারা। আমার স্ত্রী যে পোশাক কারখানায় কাজ করে সেখানে একজনের সাথে তিনি পরকীয়া প্রেম জড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে একাধিকবার সে আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি ও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। আর আজ সে আমাকে মেরে নিজে অভিনয় করে হাসপাতাল ভর্তি হয়ে আছে।এ বিচার আমি কার কাছে দেব কেউ তো আমার কথা বিশ্বাস করবে না। তবে আল্লাহ এর বিচার করবে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা রবিউল হাওলাদার জানান, আমার জামাই আমার মেয়েকে একাধিকবার টাকা পয়সার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এর মধ্যে সে আরেকটা মেয়ের সাথে পরকীয়া প্রেমের জড়িত পরে। এর পরে আমরা স্থানীয় সালিশ ব্যবস্থা মাধ্যমে দুই পরিবার মীমাংসা করি পুনরায় বুধবার রাতে আমার মেয়েকে পরকীয়া প্রেমের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে নামেমিয়ে দেওয়ার জন্য বেধর ভাবে পিটিয়ে বাসায় রেখে চলে যান রোবেল। পরে স্বজনরা তাৎক্ষণিক হাসপাতাল এনে ভর্তি করে। আমার মেয়ের বর্তমানে হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসায় রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে ভুক্তভোগী গৃহবধূ রহিমা বেগম ও তার পরিবার সদস্যরা এর আগে দশমিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দশমিনা থানা ওসি তদন্ত ইমাম মেহেদী জানান,এ বিষয়ে আগে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আকাশজমিন/আরাআর