ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পবার ইউপি ভবনে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন


  • আপলোড সময় : বুধবার ০২ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৫:০৯ পিএম

উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:

সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ করতে রাজশাহীর পবায় উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ‘ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখনে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাবে। বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। তিনি বলেন, বর্তমান যুগ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের। এই বিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি মঞ্চ। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গ্রামীণ যুবসমাজের আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বী হওয়ার বাতিঘর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। সুসজ্জিত কক্ষে একসঙ্গে ২০ জন শিক্ষার্থী এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের যেকোনো শিক্ষার্থী কম্পিউটার বেসিক, অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের এই সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী আবু বাশির বলেন, দক্ষতার অভাবে সৃষ্ট বেকারত্ব একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। আমরা কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশ্বাসী। এলাকার তরুণরা দক্ষ হয়ে উঠলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ আলী বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও আমাদের অনেক তরুণ-তরুণী বেকার। এই কেন্দ্র তাদের জন্য আশার আলো। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। আমরা চাই, এই কেন্দ্রটি বেকারত্ব দূর করার একটি মডেল হয়ে উঠুক। কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, কম্পিউটার শিখে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমাদের গ্রামে এমন সুযোগ পেয়ে আমরা ভাগ্যবান।

কেন্দ্রের প্রশিক্ষক রুহুল আমিন জানান, প্রথম ব্যাচেই আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। তাদের শেখার আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত। বর্তমানে আমরা তাদের কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়, যেমন- অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং শেখাচ্ছি। এই ভিত্তি তৈরি হয়ে গেলে আমরা তাদের অনলাইন আউটসোর্সিং, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতো লাভজনক বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবো। আমাদের লক্ষ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়, তাদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা।

দর্শনপাড়া ইউনিয়নের জামায়াতের নায়েবে আমির রফিকুল ইসলাম বলেন,আমাদের এলাকার অনেক শিক্ষার্থী কম্পিউটার শেখার সুযোগ পায় না। এই কেন্দ্র চালুর ফলে গ্রামের ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ হবে। এতে তাদের চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে।#

 

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর