ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ

কটিয়াদী ও মনোহরদীর ব্রহ্মপুত্র নদে রাতে চলছে বালু লোপাটের মহোৎসব


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৩ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৫:৪২ পিএম

কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা ও পাশ্ববর্তী নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে রাতের আঁধারে চলছে অবৈধভাবে বালু লোপাটের মহোৎসব। এতে করে চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে নদের  দুই পাড়ের বসতভিটা ও ফসলের জমি৷ এছাড়াও বিনাবাধায় দেদারসে লুন্ঠন হয়ে যাচ্ছে রাষ্টীয় সম্পদ। প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারির অভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

বৃহস্পতিবার ৩ জুলাই সকালে কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া গ্রামে নদের পাড়ে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে৷ এসময় তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান৷ একইসাথে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবিও জানান উপস্থিত এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জালালপুর দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া অংশে ও পাশ্ববর্তী মনোহরদীর চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের সিমান্তে বড় বাল্কহেড নৌকা ৪-৫ টি দিয়ে সুযোগ বুঝে কখনো দিনে আবার অধিকাংশ দিনে বা গভীর রাতে বালু তোলা হচ্ছে গত দুই সপ্তাহ ধরে৷ প্রশাসনকে ধোঁকা দিতে রাতকে মোক্ষম সময় ধরে নিয়েছে চক্রটি৷ একিসাথে পাশ্ববর্তী খিদিরপুর, বেলাবো বিন্নাবাইদ অংশেও তারা প্রবেশ করে বালু তুলে নিয়ে যায়৷

স্থানীয়রা আরো জানান, কদিন আগে মৃধা বাড়ি খেয়াঘাটে দিনের বেলা কয়েকটি নৌকা বালু তোলা শুরু করলে স্থানীয়রা বাঁধা দিয়ে আটকিয়ে রাখে। পরে স্থানীয় কয়েকজন লোক ( চক্রের সদস্য) হুমকিধামকি দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়৷ প্রশাসন খোঁজ নিয়ে তাদের ধরলেই বালু লোপাট বন্ধ হতে পারে বলেও তারা জানান৷

অনুসন্ধান ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় তোলা কটিয়াদী ও মনোহরদী অংশে নদীর পাড়ে অবৈধ বালুর স্তুপ রয়েছে। কটিয়াদী অংশে দুটি, মনোহরদী অংশে ৩ টি। এগুলোতে কয়েক কোটি টাকার বালু জমা রয়েছে৷ সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র তাদের অবস্থান পাল্টে দুই এলাকার প্রভাবশালী দলের সুবিধাবাদী লোকজনের ছত্রছায়ায় নতুন করে বালু তোলা এবং পূর্বর বালুর স্তুপ লোপাটের অপচেষ্টা চলছে। বালুর স্তুপ গুলো প্রশাসন সরিয়ে না নিলে তাও লুটে নিবে বালু লোপাটের সিন্ডিকেট চক্র। একিসাথে এগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে কমদামে সরকার থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিনে নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে আরেকটি চক্র৷ সবমিলিয়ে সরকারের ওপর মহলের কঠোরতা ছাড়া তাদের আটকানো কঠিন বলেও জানান স্থানীয় লোকজন৷

জালালপুর উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, গোলাপ,মাসুদ মৃধা,স্বপন মৃধা,বোরহান মৃধা,জয়নাল উদ্দিন,তোতা মৃধা সহ আরো অনেকেই বলেন, নৌকা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু তোলে নিয়ে যাচ্ছে। রাত যখন গভীর হয় তখন আমরা ড্রেজার এর শব্দ পাই। ফজরের সময় তারা সটকে পড়ে৷ এভাবে বালু তোলার কারণে বসতবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমি নদের ভাঙ্গনে পড়তে পারে৷ এ নিয়ে প্রতিরাতে তাদের আতংকের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকিধামকি দেওয়া হয়।


সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, আপনার থেকে বিষয়টি জেনে এসিল্যান্ডকে অবগত করে তাৎক্ষণিক পাঠিয়েছি৷ কিন্তু দিনে কাউকে গিয়ে পাওয়া যায়নি৷ এ বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে৷ স্তুপ করা বালুর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।  স্থানীয়রা তাদের দেখামাত্রই আমাদের যেনো অবগত করেন বলা হয়েছে৷'

 

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, এভাবে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ এ বিষয়ে কোন ছাড় নয়৷ নজরদারি বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানকে বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেন নি৷

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর