ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

কোরআনে হাফেজ রুহুল আমিন নিজ বাড়িতে শিকলবন্দী


  • আপলোড সময় : সোমবার ২১ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৮:৪০ পিএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গির  এলাকার  মেধাবী ছাত্র কোরআনে হাফেজ রুহুল আমিন গত ১৫ বছর ধরে  নিজ বাড়িতে শিকলবন্দী রয়েছেন। ২০১০ সালের  দাখিল পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।রেজাল্টের পরই  সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে  ফেলেন রুহুল আমিন। পরে  তার আর পড়াশোনা হয়ে উঠেনি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় মাঝিনা  আহমেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় কোরআন মাজিদ মুখস্থ করে হয়েছিলেন হাফেজ। ২০০৬ সালে জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আজানে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।  দাখিল পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবার  কিছু দিনের মধ্যে  অসুস্থতা বোধ হয় রুহুল আমিনের। রেজাল্ট  শেষে ডাক্তারও দেখানোরও পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুই  দিন পর হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সে।

 

জীবনের ৩০টি বছর পার হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি রুহুল আমিন। প্রথমে এলাকার  মানুষের সাথে অস্বাভাবিক আচরণ  শুরু করতেন।   অনেক সময় নানাভাবে বিড়ম্বনায় ফেলে দেন স্থানীয়দের। অর্থের অভাবে  হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা।  উপায় না দেখে পরিবারের লোকজন একটি ভাঙ্গা ঘরের ভিতরে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন তাকে।

 

রুহুল আমিন রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জাঙ্গীর গ্রামের (দারকাব) টেক এলাকার হতদরিদ্র ইদ্রিস আলীর ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট রুহুল আমিন। বাবা অসুস্থ কোনো কাজ করেন না। অভাব-অনটনের সংসার। বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজ দেখিয়েছেন তাকে সুস্থ করার জন্য। কিন্তু পারিবারিক অভাব-অনটন, আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তার পরিবার।

 

রুহুল আমিনকে পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীর সহায়তায় রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় তার চিকিৎসার জন্য।  সেখানে ডাক্তার দেখানো হয়।  ২ মাস সেখানে ভর্তি রাখা হয়। কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছিল তার অবস্থার। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাকে

 

হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। বর্তমানে মাঝে মধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক থাকে তখন ঘরের সামনে বসে সময় পার করে রুহুল আমিন। আশপাশের লোকজনের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করে। কোরআনের আয়াত শোনান। অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলেই ফের পায়ে শিকল বেঁধে তালাবদ্ধ করে ঘরে আটকে রাখা হয়। রুহুলের বাবা ইদ্রিস আলী বলেন, আমার রুহুল আমিন বড় মেধাবী ছিল। অর্থের অভাবে আমার কোরআনে হাফেজ পোলাডারে চিকিৎসা করাইতে পারতাছি না। টাকার ব্যবস্থা হলে আমার পোলারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা করতে পারলে সুস্থ হয়ে যেত।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষা জীবনে ছেলেটা খুবই মেধাবী ছিল। কোরআনে হাফেজ হয়েছেন। দাখিল পরীক্ষার রেজাল্টের পর অসুস্থ হয়ে পরে। দাখিল পরীক্ষার রেজাল্ট সে জিপিএ-৫ গ্রেড পেয়েছিল। তার পরিবার অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারতেছে না। উন্নত চিকিৎসা পেলে ছেলেটা হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতো।

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা যদি রুহুল কে একটি প্রতিবন্দী ভাতা কার্ড বানিয়ে  দেয় তাহলে কিছুটা হলেও উপকার  হইতো। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, হাফেজ রুহুল আমিনের পরিবার থেকে যদি কেউ এসে আমাদের কাছে কোনো ধরনের চিকিৎসার সহযোগিতা চায় তাহলে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর