নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর
রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের শ্রীনগর সায়েদাবাদ এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪টি হত্যা সহ
১২ মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী
সোহেল মিয়া (৪৫)কে গ্রেফতার
করেছে । এসময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেযাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
করা হয়েছে। সে শ্রীনগর গ্রামের
নূরুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গত
মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং
করেছেন।
প্রেস
ব্রিফিং তথ্য সূত্রে জানাগেছে,
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোরে
শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ও বালুচর দু
দল গ্রামের হানিফ মাস্টার গ্রুপ এবং এরশাদ গ্রুপের
মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় একই এলাকার
আক্তার মিয়ার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৪৫) নামে এক
গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত
হয়েছে এবং ১০-১২
জন আহত হওয়ার ঘটনাটি
স্থানীয় প্রশাসন যৌথবাহিনীকে তথ্য প্রদান করে।
রক্তক্ষয়ী
সংঘর্ষের ঘটনা তাৎক্ষনিক সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নরসিংদী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসলে বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর ৫৬ ইষ্ট বেংগল
এর নরসিংদী আর্মি ক্যাম্পের পেট্রোল কমান্ডার অন্যান্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে
সংঘর্ষের দিন বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় সাড়াসী
অভিযান চালিয়ে মেজর ইব্রাহিম ও
তার দলের সাহসিকতায় একাধীক
হত্যা ও অস্ত্র মামলার
আসামী মোঃ সোহেল মিয়া
কে আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত বিপুল
পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সমূহ-
অভিযানে
আটক মোঃ সোহেলের স্বীকারোক্তি
মতে তার হেফাজতে
থাকা (১) ১টি সিঙ্গেল
ব্যারেল দেশীয় বন্দুক (২) ৪টি দেশীয়
তৈরি একনলা বন্দুক (৩) ২টি ম্যাগাজিন
(সিলভার রঙের; একটি তে N-7110, অন্যটিতে
N-011 লেখা) (৪)
৩০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি (৫) ৪ রাউন্ড
রাইফেলের গুলি (৬)
১২টি ১২ বোর শটগানের
লেড কার্টিজ (৭)
১টি মোটরসাইকেল (৮) ৩টি মোবাইল
ফোন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
যৌথ বাহিনীর তথ্য সুত্রে জানা যায়, উপরোল্লেখিত তারিখে মোঃ সোহেল মিয়া এরশাদ গ্রুপের হয়ে শ্রীনগর সায়েদাবাদ বাজারে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল এবং পুর্বে মোঃ সোহেলের বিরুদ্ধে মোট ১২ টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৪টি হত্যা এবং ২টি অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে। সে গৃহবধূ শান্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামী।
যৌথ বাহিনীর সাড়াসি অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৬ ই বেংগল এর মেজর ইব্রাহিম আব্দুল্লাহ নেতৃত্বে ৪৪ জন জোয়ান, পুলিশ সুপার নরসিংদী মোঃ হান্নান এর নির্দেশনায় সিনিয়র এএসপি,রায়পুরা সার্কেল এর নেতৃত্বে ৬০ জন পুলিশ, সিনিয়র এএসপি জুয়েল,নরসিংদী ক্যাম্প, র্যাব-১১ এর নেতৃত্বে ২৭ জন চৌকস সদস্য ও মোঃ মাসুদুর রহমান রুবেল,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, রায়পুরা উপজেলা, নরসিংদী।
আটককৃত
সন্ত্রাসী ও উদ্ধারকৃত মালামাল
প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য জেলা
পুলিশ নরসিংদীর কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও
জানান ।
আকাশজমিন/আরআর