ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তন


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩১ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৫:০৮ পিএম

স্বপন পাল

‘বাল্যবিবাহ নির্মূলে বাংলাদেশের লাগতে পারে ২১৫ বছর’

ভীষণ রকমের চমকে উঠার মতো কথা।বাংলাদেশে প্রতিবছর শতাংশ হারে বাল্যবিবাহ কমছে। এই হারে কমলে বাংলাদেশ থেকে বাল্যবিবাহ দূর করতে সময় লাগবে ২১৫ বছর।এক বছরেরও আগে ( জুন ২০২৪) বাল্যবিবাহ বন্ধে আয়েজিত এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি ক্রিস্টিন ব্লুখুস। অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুসারে বাল্যবিবাহ নির্মূলে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ২২ গুণ বাড়াতে হবে।

সেই অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো জোরদার করা, শিক্ষার হার বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোকে কাজে লাগানো এবং সামাজিক কিছু আচরণ পরিবর্তনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটি সত্য যে, সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য বাল্যবিয়ে হ্রাসের কোন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। মার্চ ২০২৫- প্রকাশিত ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালেরগার্লস গোলস: হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড ফর গার্লস? অ্যাডলসেন্ট গার্লস রাইটস ওভার ৩০ ইয়ার্সশীর্ষক একটি যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৫১ দশমিক শতাংশেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগে। এর মানে, কিশোরীদের অর্ধেক সংখ্যার বেশি বাল্যবিবাহের শিকার। এই হার এশিয়ায় সর্বোচ্চ এবং সারা বিশ্বের মধ্যে অষ্টম। আরও হতাশ করার মতো তথ্য হলো, দিন দিন এই হার বাড়ছে।

২০২০ সালে মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ের হার ছিল ৩১ দশমিক শতাংশ, ২০২৩- এসে তা দাঁড়ায় ৪১ দশমিক , আর ২০২৫- ৫১ দশমিক শতাংশে। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের হার ২০২০ সালে ছিল দশমিক ৯। ২০২৩- এসে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় দশমিক শতাংশে, আর এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। এর মানে একবছর আগে যে ২১৫ বছরের কথা বলা হয়েছিল, এভাবে চলতে থাকলে এই সময়সীমা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা আন্দাজ করা দুরূহ।   

 

বাল্যবিবাহ আর শিক্ষা-দুটি বিপরীতমুখী বিষয়

বছরের এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি (এমন বিদ্যালয় আরো আছে) বিদ্যালয় দুটি হলো পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা সম্মিলিত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার মধ্য চড়াইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জুজখোলা সম্মিলনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ১২ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছিল। এর মধ্যে জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের সব ছাত্রী বিবাহিত হওয়ায় তারা ঠিকমতো ক্লাসে আসেনি। 

মেয়েদের শিক্ষার হারের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় এগিয়েই যাচ্ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের ২০২১ সালের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে নারীশিক্ষার (১৫-২৪ বছর) হার প্রায় ৯৭। এই প্রতিবেদন আরও বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা ৯৩ দশমিক শতাংশ অর্জন করেছে। এই চিত্রটি এসডিজি লক্ষ্য পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ছেলেমেয়ের প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে আশাবাদী করে তুলে।   কিন্তু এর পূর্বে উল্লেখিত বাল্যবিবাহের চিত্রটি আমাদের অনেকটাই নিরাশায় নিমজ্জিত করে।  

বাল্যবিবাহ আর শিক্ষা-দুটি বিপরীতমুখী বিষয়। বাল্যবিবাহের কারণে দেশে হাজার হাজার মেয়ে প্রতিনিয়ত স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। ২৪ শতাংশ মেয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মা হয় দেশে। ব্যতিক্রম ছাড়া তাদের আর কখনোই স্কুলে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসা হয় না। 

বাল্যবিবাহ আইন (২০১৭) অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিয়ের বয়স মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ আর ছেলেদের ২১। এর নিচে বিয়ের আয়োজন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আমরা জানি, হরহামেশাই বাল্যবিবাহ হচ্ছে এবং তেমন কোনো শাস্তির নজির নেই। এটি রোধ করতে তেমন কোনো সক্রিয় পদক্ষেপও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যেন এটাই স্বাভাবিক-এমনটাই ধরে নিয়েছে সবাই। 

গবেষণা বলছে, অন্তত চারটি কারণে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার দ্রুত বাড়ছে।

এক. দরিদ্রতাঃ দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বেশি। এর হার ৬৪ শতাংশেরও অধিক। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সামর্থ্যও যেমন তাদের নেই এবং তেমনি তারা মনে করে, মেয়েটির বিয়ে দিলে অন্তত খাওয়ার একটি মুখ কমবে।

দুই. যৌতুকঃ বিয়ের বাজারে (!) কনের বয়স যত কম, তারডিমান্ডততো বেশি। কারণ, মেয়ের বয়স যত বেশি হয়, তত বেশি পরিমাণে যৌতুক দিতে হয় মা-বাবাকে। এমন ধারনাও প্রতিষ্ঠিত, বেশি বয়সী মেয়ের জন্যসুপাত্র পাওয়া মুশকিল। তাই অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে সেরে ফেলার প্রতি মা-বাবার আগ্রহ বেশি।

তিন. লিঙ্গবৈষম্য সামাজিক মনোভঙ্গীঃ সমাজে ছেলেশিশুর তুলনায় মেয়েশিশুরা কম আদৃত। মেয়েদেরকে পরিবারের বোঝা বা বাড়তি দায় হিসেবে দেখা হয় এখনো। একটি গবেষণা বলছে, অভিভাবকদের প্রতি ১০ জনের জনই মনে করেন যে, কেবল বিয়েই একটি মেয়ের প্রকৃত পরিচয় সম্মান এনে দেয় সমাজে। যত দিন না মেয়েটির বিয়ে হয়, তত দিন সে সমাজে একটি সম্মানজনক অবস্থান খুঁজে পায় না।

চার. নিরাপত্তাহীনতা। বর্তমান এই কারণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক কালে দেশে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির হার এত বেড়েছে যে মেয়েশিশুর অভিভাবকেরা রীতিমতো আতঙ্কে থাকেন। মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ধর্ষণ যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। নারীর নিরাপত্তাহীনতার সাথে বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত, অনলাইন বা ডিজিটাল হয়রানি, নানাভাবে সমাজে মেয়েদের হেয় করার প্রচেষ্টা। কেবল নির্যাতনই নয়, সেই নির্যাতনের ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। যতো দ্রুত সম্ভব মেয়েকে বিয়ে দেওয়া এর একমাত্র সমাধান হিসেবে ধরে নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

উপরে উল্লেখিত ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্যও উঠে এসেছে যে, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া সম্পন্ন করতে পারে ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ কন্যাশিশু।  এই প্রতিবেদন বলা হয়েছে, কিশোরী মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে ২০৩০ এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে সরকার অংশীজনদের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা গ্রহণ জরুরী।

দেশের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা নারী। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে শিক্ষার বাইরে অন্ধকারে রেখে একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না কিছুতেই  

 

বাল্যবিবাহ কিশোরী মায়ের চক্র থেকে বের হতে হবে

বাল্যবিবাহ কিশোরী মায়ের চক্র থেকে বের হওয়ার নজির বিশ্বে আছে। বাংলাদেশ বের হতে পারছে না। আগেই উল্লেখ করেছি, ৫১ দশমিক শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ১৮ বছর হওয়ার আগেই। এই চিত্রের পাশাপাশি এটিও উল্লেখ্য যে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক হাজার মেয়ের মধ্যে ৭১ জন এক বা একাধিক সন্তানের মা।

কম বয়সী মেয়েদের সন্তান জন্ম দেওয়ার এই তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের জনসংখ্যাবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএর এবারের বার্ষিক প্রতিবেদনে। জুন, ২০২৫ প্রকাশিত ইউএনএফপিএর বৈশ্বিক জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২৫ বিষয়ক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও বাংলাদেশের মতো এত বেশি বাল্যবিবাহ নেই। বাল্যবিবাহ বেশি হওয়ার কারণে কিশোরীদের গর্ভধারণ বাড়ে। কিশোরী মা হলে তার মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে, সন্তানের মৃত্যু বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশ বাল্যবিবাহ কিশোরী মায়ের এই দুষ্ট চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। 

১৯৯৯ বেইজিং ঘোষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নারীদের সার্বিক উন্নয়নে যেসব অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি লক্ষ্যের অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি কোনো দেশ। এদিকে ২০৩০ জাতিসংঘের টেকসই অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি থাকায় ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয় বিশ্বের অনেক দেশ তাদের কিশোরী মেয়েদের বিকাশের জন্য বিনিয়োগ করে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পর্যায়েই নয় দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ব্যাপক সুফল লাভ করেছে। তবে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। কেননা এখানে প্রতিনিয়তই নানা বৈষম্য, সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি এবং সুযোগ স্বল্পতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে কিশোরীদের।

বাল্যবিবাহ রোধ করতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘জীবন দক্ষতা ডিজিটাল শিক্ষা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি উচ্চ হারে বিদ্যমান শিশুবিয়ে এবং কন্যাশিশু নারীদের ওপর সহিংসতা মোকাবিলা করা; কেননা এর ফলে অল্প বয়সে বিপজ্জনকভাবে সন্তান ধারণের ঘটনা ঘটে এবং প্রায়ই প্রাণ হারায় ছোট্ট-বয়সী মা তার সন্তান।

ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো অনেক কন্যাশিশু স্কুলে যায় না। তারা বাল্যবিবাহের মতো ক্ষতিকর চর্চা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের সম্ভাবনার বিকাশের জন্যঅল-হ্যান্ডস-অন-ডেকঅ্যাপ্রোচ অর্থাৎ এখন থেকে সবাই মিলে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা আবশ্যক।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ‘শিশুবিয়ে, অল্প বয়সে জোরপূর্বক বিয়ের হার কমানো, যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি এবং কিশোরীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ জনপরিসরে মেয়েদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো আমাদের অনেক কিছু করার রয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন থাকা সত্ত্বেও এই আইন বাস্তবায়নে সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা সমাধানে সম্প্রতি ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল  ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পলিসি ডায়ালগ এতে বলা হয়, ‘আমরা যত উন্নয়ন কার্যক্রমই পরিচালনা করি না কেন, যদি বাল্যবিবাহ রোধ করতে না পারি, তবে সেই উন্নয়ন টেকসই হবে না, বরং বারবার বাধাগ্রস্ত হবে।

সংলাপে বলা হয়, সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে আইন প্রয়োগ করেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর ধারা ১৯ সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে। এও জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকেকুইক রেসপন্স টিমগঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলাপর্যায়ে প্রায় হাজার ২০০টি টিম গঠন করা হবে, যারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে কাজ করবে। এছাড়াও ইতিমধ্যে ৫০০ সমাজকর্মী শিশুদের জন্য নিয়োজিত করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আরও সমাজকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।  বিষয়ে গ্রাম পুলিশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমন ভাবনাও উঠে এসেছে যে, তরুণদের নিয়ে দল তৈরি করা যায়, যারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করবে।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মেয়েদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি। কারণ, শিক্ষা শুধু বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের রক্ষাকবচই নয়, এটি মেয়েদের ক্ষমতায়ন, সমতা দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রধান শক্তি।- স্বপন পাল : প্রাবন্ধিক উন্নয়ন সংস্থা এসইউএস নির্বাহী পরিচালক।

 আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর