ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

রাস্তা খারাপ তাই কেউ বিয়ে করতে চায় না!


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০১ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৫:৩৯ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের শিলংদহ গ্রামেরে রাস্তার বেহাল দশা, রাস্তার জন্য এই গ্রামে কেউ বিয়ে করতে চায় না! তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ থেকে গুরমা পর্যন্ত মাত্র দেড় কিলোমিটার কাঁচামাটির রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা-পানি সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পানি মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায়, নে হয় যেন কোন মিকে ধান রোপনের জন্য প্রস্তুত রে রেখেছে। এতে বিপাকে পড়েন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা শত শত মানুষ। বেশি বিপাকে পরতে হয় স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচারাস্তাটিতে ইটের ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। শুধুমাত্র দেড় কিলোমিটার এই কাচা রাস্তার ভোগান্তির জন্য ওই গ্রামে কেউ বিয়ে করতে চায় না!

সরেজমিন দেখা যায়, তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ গ্রাম থেকে গুরমা গ্রামের বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধসহ সবাইকে। বছরের প্রায় - মাস এই ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রামবাসীদের।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এই এলাকার মানুষের আতঙ্ক ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটু সমান কাদা। কাদার জন্য গ্রামের রাস্তায় কোনো ভ্যান-রিকশা ঢোকে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন অ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে পারে না। মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করে তার পর গাড়িতে উঠাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, এই আধুনিক যুগেও আমরা ভিশপ্ত জীবন যাপনে বাধ্য চ্ছি মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তার জন্য। আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। আমাদের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না, নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাটবাজারে যেতে পারি না। পর্যাপ্ত উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না।

আমাদের ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। শুধুমাত্র রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার জন্য গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে ভেঙে যায় বারবার। জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো ফল হয়নি। দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক বলেন, এই রাস্তাটির জন্য এলাকাবাসী খুবই দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। এই রাস্তা  করার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি; আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি সুনজরে নিয়ে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, এই রাস্তার বরাদ্দ এলে আগামীতে আমরা অবশ্যই রাস্তাটি পাকা করার চেষ্টা করব।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর