সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 160
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই, উপজেলার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের কোমলমতি ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার এই নৌকা পাড়াপাড়ে প্রতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এতে অভিভাবকদের বাড়তি খরচও করতে হয়।
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের
সান্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, কুশাবাড়ি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের
হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন নৌকায় পারাপার হয়ে স্কুলে যাতায়াত
করতে ১০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়।
অভিভাবকরা
জানান, শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে তারা স্কুলে যায়। বর্ষা মৌসুমে এ সব বিদ্যালয়ে যাওয়ার
জন্য নৌকাতে যাতায়াত করতে হয় তাদের। এতে অনেকটাই ঝুঁকি থাকে।
এ
বিষয়ে শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,
শুষ্ক মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই কাঁচা সরু রাস্তাঘাট, ডোবা-নালা পাড়ি দিয়ে স্কুলে
যেতে হয়। এতে অনেক সময় কাঁদা পানিতে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের
স্কুলে যাওয়ার ভাল রাস্তা না থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও যেমন কষ্ট করতে হয় তেমনি বর্ষা
মৌসুমেও কষ্ট করে ছোট ছোট নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। এতে খুবই কষ্ট হয়।
এ
বিষয়ে নৌকার মাঝি আসলাম হোসেন বলেন, ঘাট থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে
যাতায়াত করি। শিক্ষার্থীরা নড়াচড়া করলে মাঝে মধ্যেই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। আবার বাড়ি
থেকে তাদের বের হতে একটু দেরি হলে তারা আর নৌকা ধরতে পারে না। ফলে সেদিন আর তাদের স্কুলে
যাওয়া সম্ভব হয় না। পরের নৌকায় গেলেও ক্লাস মিস হয়।
এ
বিষয়ে হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল
ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। নদীতে বর্ষার পানি কমলেও
খাল-বিল ও শাখা নদীতে পানি না কমায় বছরের বেশির ভাগ সময় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো
উপায় থাকে না। ছোট ছোট নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে কমলমতি
শিক্ষার্থীরা। এতে আমরাও আতঙ্কে থাকি।
এ
বিষয়ে প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোছা. তৌবুন নাহার জানান,
এ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য একটি নৌকা আছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।
আরও একটি নৌকা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধা হবে।
এ
বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ বলেন, তাড়াশ উপজেলার
৬টি প্রতিষ্ঠান চলনবিলের মধ্যে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অথিকাংশ সময় নৌকায় পারাপার
হতে হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে ওই সকল প্রতিষ্ঠানে নৌকার ব্যবস্থা করা যায়
তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর