ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

৩৮ বছর পত্রিকা বিক্রি করে জীবন জীবিকা


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৯:১৬ পিএম

কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

৩৮ বছর পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন রঞ্জন কুমার সরকার। একসময় ৬০০ কপি পত্রিকা বিক্রি হতো কিন্তু ধীরে ধীরে পত্রিকা বিক্রি কমে এখন ১৭০ কপি তে নেমে এসেছে তাই হতাশায় দিন কাটছে রঞ্জন কুমার সরকার ও তার ছোট ভাই গোপাল সরকার। তাদের দাবি পত্রিকার পাঠক কমেযাওয়ার পেছনে অনলাইন, ইউটিউব, টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইজবুক সহ ডিজিটাল প্লাটফর্ম দায়ী।

 

গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় ৩৮ বছর যথাবৎ পাঠকদের নিকট সকাল হলেই দেশে বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর পৌঁছে দিচ্ছেন রঞ্জন কুমার সরকার এবং খবর কাগজ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি । তবে তিনি একা নয় বড় ভাই রঞ্জন কুমার সরকারে পত্রিকা বিক্রি দেখ অনুপ্রেরণায় ছোট ভাই গোপাল সরকার শুরু করেন পত্রিকা বিক্রি তিনি ও এ পেশায় ২৮ বছর পার করেছেন।

 

ভক্সপপ ১ রঞ্জন কুমার সরকার বলেন আমি দীর্ঘ ৩৮ বছর পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি কিন্তু পত্রিকা বিক্রি করে আর সংসার চলছে না! একসময় পত্রিকার ভীষণ চাহিদা ছিল ৬০০ কপি পত্রিকা বিক্রি হতো সেটি বিক্রি হতে তেমন বেগ পেতে হতো না দুপুরের মধ্যে বিক্রি হয়ে যেত তবে এখন মাত্র ১৭০ কপি পত্রিকা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দারে দারে ঘুরে ও পত্রিকা বিক্রি হয় না।

রঞ্জন কুমার সরকার একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তার একটি চোখ দৃষ্টি হীন। রঞ্জন কুমার সরকার পত্রিকা বিক্রি ছাড়া অন্য কোন পেশা তার জানা নেই তাই এ-ই পেশা তার বদল করাটাও সম্ভব নয় এখন কি করবে ভেবে ভেবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে, তার পরিবারে রয়েছে আট সদস্য তার ভিতর ছোট বোন টি মানসিক ভারসাম্যহীন, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরজ সবমিলিয়ে যেন হতাশার সাগরে নিমজ্জিত।

গোপাল সরকার বলেন ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরার জন্য বড় ভাইয়ের সঙ্গে পত্রিকা বিক্রি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন।তিনি বলেন পত্রিকা বিক্রি করতে এতে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতেন কারণ পত্রিকা পাঠকের বড় একটি অংশ শিক্ষিত সমাজ তাই সারাদিন বড় বড় অফিসার সহ সমাজের উচ্চ বিত্তশালীদের সাথে কথাবার্তা চলা ফেরা হত তাই তার পেশাটা ভালোই লাগতো এবং এ-ই পেশা ছেড়ে দিতেই চাইলে ও তিনি ছাড়তে পারেননি কারণ শিক্ষিত সমাজ, অফিসার সমাজের মায়ার টানে এ-ই পেশা ছাড়তে পারেনি।

তিনি আরো বলেন একসময় পত্রিকা গ্রাহক পত্রিকা চেয়ে চেয়ে নিত এখন গ্রাহকদের নিকট পত্রিকা নিতে চাচ্ছে না তারা বলে পত্রিকা অনলাইনে পড়েছি।এখন গ্রাহক আছে পুরানো কিছু এবং চাকরি শেষ পর্যায়ে যারা আছে আর নতুন দুই একটা কাস্টমার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য পত্রিকা নিয়ে থাকেন। গোপাল সরকার আরো বলেন বিগত চার পাঁচ বছরে পত্রিকা বিক্রি কমে আসছে তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউটিউব, অনলাইন, টিভি চ্যানেল, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ডিজিটাল প্লাটফর্ম সহ মোবাইল কে দায়ী করেন। রঞ্জন কুমার সরকার ও তার ছোট ভাই গোপাল সরকারের পাঠকদের প্রতি আহ্বান যেন এদেশের তরুণ সমাজ পত্রিকা পড়ে তাদের পেশাটা বাঁচিয়ে রাখেন।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর