ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

দিশেহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ

লালমনিরহাটে পানি কমায় দেখা দিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৮ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৫:৪৯ পিএম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে কমতে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। পানি কমলেও  দেখা দিয়েছে ভাঙন দিশেহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ।  কয়েকদিন আগেও টলটলে পানির স্রোতে দ্বীপের মতো ভেসে থাকা গ্রামগুলোতে এখন চোখে পড়ছে ভাঙা ঘর, ভেজা আসবাবপত্র আর কাদায় মাখামাখি উঠান। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দীর্ঘশ্বাস, সব কিছু  হারিয়েও এখন ভাঙনের ভয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিদিনই নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে অনেক আবাদী জমি।

হাতীবান্ধার উপজেলার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জ আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর আবাদি জমি হুমকির মুখে। দক্ষিণ ভোটমারী সিন্দুর্না, মহিষখোচার চরাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাত জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ক্ষতি।

গড্ডিমারীর ইউনিয়নের  কৃষক সামসুল হক বলেন, তিন বিঘা জমিতে দুই দফায় ধান লাগিয়েছিলাম। বন্যার পানিতে সব শেষ। নতুন করে চারা কেনার মতো টাকাও নেই। মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কৃষক হামিদুর রহমান ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, এখন রোপণের জন্য বীজই নাই। কৃষকের ঘরে মরণ ছাড়া আর উপায় নাই।

বন্যার পানি সরে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঘরে ফিরলেও সেখানে দেখা দিয়েছে নতুন দুঃখ। কালীগঞ্জের দিনমজুর  সুমন মিয়া বলেন, তিনদিন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন ঘরে ফিরেছি। কিন্তু ঘরই বসবাসের অযোগ্য। সবকিছু ভিজে গেছে, পোকামাকড় ভরে গেছে।

সিন্দুর্না গ্রামের সফুরা বেগম ভেজা খাটের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তিস্তা আমাদের সব শেষ করে দিলো। ক্ষেত গেল, ঘর গেল, মাছ গেল। ত্রাণ দিয়ে তো একদিন চলে, আমাদের চাই স্থায়ী বাঁধ। তিস্তা শুধু ঘরবাড়ি ফসল ভাসায়নি, মানুষের মনে রেখে গেছে গভীর ক্ষতের দাগ। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দাবি- ত্রাণ নয়, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক . সাইখুল আরিফিন দাবি করেন, ক্ষতির পরিমাণ সীমিত। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষকের কাছে রোপণের জন্য চারা নেইপানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর