রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের
রাঙ্গুনিয়ার সন্ত্রাসী রুবেলকে (৩২) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় তার সাথে
থাকা মো. মোরশেদ (২৮) নামের একজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে এবং আজিম নামের অপর একজন গুলির শব্দে পালিয়ে বেঁচেছে।
বুধবার দিনগত রাতে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওর্য়াড হারুয়ালছড়ি ইকুপার্ক সংলগ্ন
একটি বসতঘরে এই ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার
সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছেন। নিহত রুবেল একই এলাকার রফিকুল
ইসলামের ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের
হাতে তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন।
থানা
সুত্রে জানা যায়, বুধবার দিনগত রাত আড়াইটা
থেকে তিনটার মধ্যে হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হামলা চালায়। প্রথমে
ঘরের বাইরে শর্টগানের একটি গুলি ছুড়লে শব্দ শুনে পালিয়ে যায় আজিম। তারা ভেতরে প্রবেশ
করে রুবেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে এবং গুলি করে হত্যা করে। তার বাম
হাতে গুলি করে, গলার বাম পাশে জবাই করে, বাম হাতের কব্জির অর্ধেক অংশ ও অন্ডকোষ কাটা,
বাম পায়ে কোপ দেয়া ছিলো। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার সাথে থাকা মোরশেদের হাতেও কুপিয়ে
যখম করার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এখন চট্টগ্রাম ম্যাডিকেলে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
এই
ব্যাপারে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। আজিমকে
থানায় আনা হলে সে কাউকে চিনতে পারেনি বলে জানান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোরশেদের
মোবাইলটি জব্দ করা হয়েছে। কারা কেনো এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য
রুবেল পদুয়া ইউনিয়ন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলো। এলাকায়
চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মারামারি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি,
চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসায়সহ এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। তার
বিরুদ্ধে অতিষ্ট এলাকার মানুষ দেশের পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভ
মিছিলসহ নানা কর্মসূচী পালন করে। এসব অভিযোগে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা রয়েছে তার
বিরুদ্ধে। তিনি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন বলে জানান স্থানীয়রা।
আকাশজমিন/আরআর