ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

তদন্তে ইনকোয়ারী কমিশন

দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৩৩ পিএম

দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সরকারিভাবে স্বীকৃত নিকাহ তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) কাজী মো. আবুল হোসেনকে গুম করে শারীরিক মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত করেছে গুম সংক্রান্ত ইনকোয়ারি কমিশন কার্যালয়। তিনি নিজেই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গত এপ্রিল ২০২৪ তারিখে কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

 

কাজী আবুল হোসেন তার আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তিনি কাহারোল থানাধীন ৪নং তারগাঁও ইউনিয়নে কাজ করছেন। তার ভাষ্যমতে, ২০১৭ সালের এপ্রিল রাতে কাহারোল বাজার আহলে হাদিস মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ১০-১২ জন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর তার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দিনাজপুর পুলিশ লাইনের বাইরে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

 

তার অভিযোগ অনুযায়ী, দিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়। এই সময়ে তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয়নি এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এরপর কিছু মিথ্যা কথা শিখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তা বলতে বাধ্য করা হয়। তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে, যদি তারা শেখানো মিথ্যা কথা না বলেন, তবে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হবে এবং তার পরিবারকে শান্তি মতো থাকতে দেওয়া হবে না। জীবনের এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি তাদের শেখানো কথা বলতে রাজি হন।

 

কাজী আবুল হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে গুম করার পর তার পরিবারের কাছে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল রাতে তার পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। সময় বাকি ১৪ লক্ষ টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরে ১১ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে তাকে দিনাজপুর কোর্টে চালান করা হয়। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন (সংশোধনী/২০১৩) অনুযায়ী একটি মিথ্যা মামলা (মামলা নং ৫১) দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত দায়রা জজ নং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘ মাস দিন পর, ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন।

 

এই মামলার বাদী ছিলেন এসআই ফরিদুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ডিবি পুলিশের সদস্য এসআই মো. আজিজুল বারী ইবনে হালিম এসআই মো. বজলুর রশিদ। কাজী আবুল হোসেনের অভিযোগ, এসআই বজলুর রশিদ নিজেই তার বাড়ি থেকে লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নিয়েছিলেন।

 

আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর এসআই ফরিদুল ইসলামকে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নাকি জানান, সবকিছু সরকারের নির্দেশে করা হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে কাজী আবুল হোসেনের স্ত্রী মরহুমা সাবিহা খাতুন কাহারোল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

আাকশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর